বটিয়াঘাটায় জমি দখল নিয়ে বিরোধ, থানায় অভিযোগ
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের সুখদাড়া মৌজায় জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে মারামারি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চয়ন মন্ডল বাদী হয়ে বটিয়াঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুখদাড়া মৌজার জে.এল. নং-৫৮ এলাকায় বিরোধপূর্ণ একটি জমি নিয়ে চয়ন মন্ডলের সঙ্গে একই এলাকার চপলা রপ্তান (৩৫), কল্পনা রপ্তান (৫৫) ও তারক রপ্তান (৪৫)-এর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
চয়ন মন্ডলের দাবি, তার ঠাকুরদা চপলা মন্ডলের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তির এসএ ও আরএস রেকর্ডে চয়ন মন্ডল মালিক হিসেবে উল্লেখ রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে অপর পক্ষের দাবি, তারা ওই সম্পত্তি পুনরায় নিজেদের দখলে নেওয়ার অধিকার রাখেন। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
চয়ন মন্ডলের অভিযোগ, অপর পক্ষের কাছে জমিটি ফেরত নেওয়া বা পুনরায় মালিকানা প্রতিষ্ঠার পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তার দাবি, সালিশে অপর পক্ষের জমিতে না যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও পরবর্তীতে বিরোধপূর্ণ জমিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে চয়ন মন্ডল উল্লেখ করেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান রোপণ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে ধান রোপণে বাধা দেন এবং রোপণ করা ধানের চারা তুলে ফেলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় চয়ন মন্ডলের ডাক-চিৎকার শুনে তার বোন তনুজা মন্ডল (৩০) ঘটনাস্থলে গেলে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং ধানের চারা তুলতে নিষেধ করায় তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে তনুজার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
চয়ন মন্ডলের আরও অভিযোগ, ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে আহত তনুজা মন্ডলকে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চয়ন মন্ডল দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার পরিবারকে চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে চয়ন মন্ডল বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য যাচাই, ঘটনার তদন্ত এবং অভিযোগে উল্লেখিত হামলা ও হুমকির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। জমির প্রকৃত মালিকানা, দখলের বৈধতা এবং ঘটনার সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

