ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে চোরাই জ্বালানি তেলের রমরমা বাণিজ্য

ঝিনাইদহ-যশোর প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে এখন চোরাই জ্বালানি তেল কারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মহাসড়কের সানতলা পেপসি মিল চুড়ামনকাটী, বারীনগর (সাতমাইল) বারোবাজার সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা প্রকাশ্যে চলছে চোরাই ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের রমরমা বাণিজ্য। মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানে প্রতিদিন কেনাবেচা হচ্ছে সরকারি ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জ্বালানি তেল ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, অফিশিয়াল পিকআপ ও তেলের ট্যাংকারের অসাধু চালকরা মহাসড়কের এসব চিহ্নিত পয়েন্টে গাড়ি থামিয়ে জোগান দিচ্ছে চোরাই তেলের। এমনকি সরকারি গাড়ি এবং ‘পদ্মা’, ‘মেঘনা’ ও ‘যমুনা’ তেল কোম্পানির ট্যাংকার থেকেও অবাধে তেল নামানো হয়। এসবের পাশাপাশি প্রাণ-আরএফএল, সিমেন্ট ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য পরিবহনকারী বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকের চালকরা নিয়মিতভাবে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

ডিজেল, পেট্রোল কিংবা অকটেনের মতো দাহ্য পদার্থ বিক্রির জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও বৈধ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক হলেও এসব দোকানের একটিরও কোনো আইনি বৈধতা নেই। দোকানীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চালকদের কাছ থেকে তারা বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে অর্থাৎ প্রতি লিটার ডিজেল ৯০ টাকা এবং পেট্রোল ও অকটেন ১০০ টাকা দরে কিনে নেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সময় যখন জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছিল, তখন অপরাধীরা এসব চোরাই দোকান থেকেই আলাদা পাত্রে জ্বালানি তেল কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশী দামে পাচার করেছিল।

সরকারের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উন্মুক্ত পাত্রে দাহ্য পদার্থের এই অবাধ বেচাকেনা যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।মহাসড়কের বারীনগর এলাকার এক তেল কারবারির কাছে ব্যবসার আইনি বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সে স্বীকার করে, আমাদের কোনো বিস্ফোরক লাইসেন্স নেই, ব্যবসা সম্পূর্ণ অবৈধ।

লাইসেন্স ছাড়া কীভাবে এ ব্যবসা চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে কয়েকজন কারবারি দম্ভো করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে আসা ব্যক্তিবর্গকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোহারা (মান্থলি) দেওয়া হয়।তারা আরও দাবি করেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করে তাদের কোনো ক্ষতি করা যাবে না; কারণ ওপর থেকে নিচ সব পর্যায় ‘ম্যানেজ’ করেই ব্যবসা করা হয়।এদিকে,পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ চালকরা।

সাজিয়ালি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুর রউপ জানান, তেলের সংকটের সময় সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করা হতো। বিষয়টি নিয়ে আবারও খোঁজখবর নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *