পিরোজপুরে কমিউনিটি পুলিশিং ডে সভা অনুষ্ঠিত মাদক-সন্ত্রাস দমনে পুলিশ-জনতার সমন্বিত ভূমিকার আহ্বান

মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, পিরোজপুর:
‘পুলিশ জনতা, ঐক্য গড়ো—শান্তির সমাজ গড়ো’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরে কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, কিশোর অপরাধসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পিরোজপুর নায়োরী কমিউনিটি সেন্টারে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি ও সদর থানা পুলিশের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি সদর থানার সভাপতি শেখ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রিয়াজ উদ্দিন রানা এবং জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন।এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু পুলিশের অভিযান যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মাদকসেবীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে। প্রত্যেক পরিবারকে সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের মানুষের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। স্থানীয় জনগণ সহযোগিতা করলে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।
পুলিশ সুপার স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সভা করে এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি তা সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে রক্ষা করতে সুপারিশ করাও অপরাধের শামিল। কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার কারণ হতে পারে না। মাদক প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি সন্তানদের নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান বলেন, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে গঠনমূলক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণের সহযোগিতা নিয়েই পুলিশ কাজ করতে চায়। বাংলাদেশ পুলিশ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।সভায় উপস্থিত সচেতন নাগরিকরা বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিচয় প্রকাশ হলে তথ্যদাতা পরবর্তীতে নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারেন। এতে ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমে যেতে পারে।
তারা আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের পরিচয়ে সমাজের আইন ভঙ্গকারীরা যেন ছাড় না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী যে পরিচয়েরই হোক, তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সভায় পিরোজপুরের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, কিশোর অপরাধসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *