পিরোজপুরে ৩ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা, নিলামে বিক্রি জব্দকৃত তেল
মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী,স্টাফ রিপোর্টার, পিরোজপুরঃ
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়া উপজেলায় পৃথক অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ রাখা প্রায় ৩ হাজার ৬০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীকে জেল ও জরিমানা প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দকৃত তেল পরে সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) গভীর রাতে ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠী ফকিরবাড়ি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানভির এন্টারপ্রাইজের একটি গুদাম থেকে ৯৫০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) উজ্জল হালদার এবং ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসানের উপস্থিতিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ডিজেল জব্দ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের মালিক সিদ্দিক হাওলাদার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বুধবার ( ১ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জব্দকৃত ডিজেল প্রতি লিটার ৯৬ টাকা ৩৯ পয়সা দরে উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হয়, যেখানে বায়জিদ এন্টারপ্রাইজ ও ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ অংশ নেয়।অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যায় মঠবাড়িয়া উপজেলার হাসপাতাল রোড এলাকায় আমিরুল অয়েল সাপ্লাইয়ার্সের স্বত্বাধিকারী শামীম হাসান খানের বাসভবনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার বাড়ি থেকে ১,৬৮৩ লিটার ডিজেল, ১২০ লিটার পেট্রোল, ২৬৩ লিটার কেরোসিন ও ১০ লিটার অকটেনসহ মোট বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫ হাজার ২৬৪ টাকা।অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকলিমা আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ। অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে শামীম হাসান খানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শামীম হাসান খান তার দোকানে তেলের সংকট দেখালেও নিজ বাসার একাধিক কক্ষে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুদ করে রেখেছিলেন, যা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকলিমা আক্তার বলেন, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

