এসএসসির ফলে খুলনা সবার শীর্ষে, দ্বিতীয় যশোর—তৃতীয় চুয়াডাঙ্গা ৬৯.৫৪ শতাংশ পাস নিয়ে বোর্ডসেরা খুলনা • যশোর ৬৮.৯৮ শতাংশ • বাগেরহাট ৬৬.৩৭ শতাংশ • ইংরেজি-গণিতে ফল বিপর্যয়ের কারণ দেখাল বোর্ড
এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে শীর্ষস্থান দখল করেছে খুলনা জেলা। ৬৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে বোর্ডের সেরা হয়েছে জেলাটি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যশোর এবং ৬৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে বাগেরহাট।
সোমবার (১০ আগস্ট) যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস. এম. হোসেন আলী ফলাফলের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনা জেলার ৫৪টি কেন্দ্রে ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের ২০ হাজার ৭৩৯ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪ হাজার ৪২১ জন। ফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যশোর জেলায় ৫৩টি কেন্দ্রে ৪৯৫টি প্রতিষ্ঠানের ২১ হাজার ৯০৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫ হাজার ১১৮ জন।
অন্যদিকে বাগেরহাট জেলার পাসের হার ৬৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। জেলার ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭ হাজার ৭৫৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
বোর্ডের ফলাফলে সাতক্ষীরা জেলায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ জেলা থেকে ১৪ হাজার ২৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯ হাজার ৪৪৩ জন।
চুয়াডাঙ্গায় ৮ হাজার ৫৯৪ জনের মধ্যে ৫ হাজার ৯০৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। নড়াইলে ৬ হাজার ১৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪ হাজার ৩৬ জন; পাসের হার ৬৫ দশমিক ১৬ শতাংশ।
মাগুরায় ৭ হাজার ৪৯৫ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৮৬০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মেহেরপুরে ৬ হাজার ১২৫ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৯৩৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে; পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৪ শতাংশ।
ঝিনাইদহে ১৫ হাজার ৯৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৫৪ জন পাস করেছে। এ জেলায় পাসের হার ৬২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। কুষ্টিয়ায় ১৯ হাজার ৯৮২ জনের মধ্যে ১২ হাজার ৫৬৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে; পাসের হার ৬২ দশমিক ৯০ শতাংশ।
ইংরেজি-গণিতে পিছিয়ে ফল কমেছে
যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস. এম. হোসেন আলী বলেন, ইংরেজি ও গণিতের ফল খারাপ হওয়ায় সামগ্রিক পাসের হার কমেছে। তবে প্রায় প্রতিটি বিষয়েই ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি।
তিনি বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। সংখ্যার চেয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই বোর্ডের মূল লক্ষ্য।এক নজরে জেলার ফল
জেলা পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ পাসের হার
খুলনা ২০,৭৩৯ ১৪,৪২১ ৬৯.৫৪%
যশোর ২১,৯০৯ ১৫,১১৮ —
বাগেরহাট — ৭,৭৫৭ ৬৬.৩৭%
সাতক্ষীরা ১৪,২৪৬ ৯,৪৪৩ ৬৬.২৯%
চুয়াডাঙ্গা ৮,৫৯৪ ৫,৯০৪ ৬৮.৭০%
নড়াইল ৬,১৯৪ ৪,০৩৬ ৬৫.১৬%
মাগুরা ৭,৪৯৫ ৪,৮৬০ ৬৪.৮৪%
মেহেরপুর ৬,১২৫ ৩,৯৩৫ ৬৪.২৪%
ঝিনাইদহ ১৫,৯৬৯ ১০,০৫৪ ৬২.৯৬%
কুষ্টিয়া ১৯,৯৮২ ১২,৫৬৯ ৬২.৯০%
ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।ছবি সংযুক্ত আছে

