বটিয়াঘাটায় গোবিন্দ বাড়ৈর মৃত্যু: ১১ দিনেও রহস্যের জট খোলেনি, স্থানীয়দের নানামুখী সন্দেহ, পর্ব-২
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
নিহত গোবিন্দ বাড়ৈ কে উদ্ধার, আঘাতের চিহ্ন ও ঘটনাস্থলের আলামত ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে একের পর এক প্রশ্ন, আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে ময়নাতদন্ত কয়েকবার করে থাকে, কিন্তু কেনো এতদ্রুত লাশ দাহের অনুমতি ও লাশ দাহ হলো। তাহলে কি আলমত নষ্ট করা হলো?
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা সদর ইউনিয়নের শিলিন্দামারী এলাকায় গোবিন্দ বাড়ৈ (৫৫) মৃত্যুর ঘটনায় ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন সম্ভব হয়নি।
গোবিন্দ বাড়ৈর মৃত্যু স্বাভাবিক, দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড—এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে মরাদেহ উদ্ধারের ঘটনা, শরীরে আঘাতের চিহ্নের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং কয়েকজনের চলাফেরা নিয়ে পাওয়া তথ্য তদন্তে নতুন কিছু প্রশ্ন সামনে এনেছে।
যেভাবে উদ্ধার করা হয় গোবিন্দ বাড়ৈকে: গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শিলিন্দামারী এলাকায় গোবিন্দ বাড়ৈকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
উদ্ধারকারীদের একজন তামিম, তার ভাষ্য অনুযায়ী, শাকিল ফোন পেয়ে তামিম কে সাথে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ঘরের ভেতর গোবিন্দ বাড়ৈকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার মাথায় ক্ষত ও রক্তপাত ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তামিম জানান, নিহতের মেয়ে তাকে একটি গামছা দিয়ে মাথা বেঁধে দিতে বলেন। তাছাড়া নিহতের পরণে কোন কাপড় না থাকায় আর একটি কাপড় পরিয়ে দেয়া হয়। পরে কয়েকজন মিলে তাকে তুলতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে আরও দুজনকে ডাকা হয় এবং ঘরের ভিতর কাদা কাদা ভাব ছিলো। এছাড়াও তামিম ও হাফিজুল বলেন, নিহতের বাম পায়ের উরুর পাশে রক্ত বা আঘাতের চিহ্নের মতো দেখা গেছে।
এছাড়া প্রত্যক্ষ দর্শী ও উদ্ধারকারী আল আমিন বলেন, পূর্বা বাড়ৈ শাকিলকে জিজ্ঞাসা করে ডাক্তার জিজ্ঞাস করলে কি বলবো? এখানে স্থানীয়দের দাবি, স্ট্রোক করলে কেনো মাথার সামনে কপালের পাশ দিয়ে রক্ত ঝরবে ও গামছা দিয়ে মাথা বেধে দিতে বলে এবং আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেলো?
এই বক্তব্যের সঙ্গে নিহতের মেয়ে পূর্বা বাড়ৈর দেওয়া বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অমিলের কথা সামনে এসেছে। পূর্বার বক্তব্য ও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে—তিনি পুকুরঘাট থেকে একাই তার বাবাকে ঘরের মধ্যে নিয়ে যান। তাহলে একজন ব্যক্তি কীভাবে তাকে পুকুরঘাট থেকে ঘরের ভেতর ৫০ ফুট পর্যন্ত নিয়ে গেলেন? স্থানীয়দের দাবি, পুকুরঘাটে বা ঘর পর্যন্ত ৫০ ফুট রাস্তায় কোন দৃশ্যমান রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। অবশ্য এটি কোনোভাবেই কারও বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ নয়।
ঐদিন ইজিবাইক থেকে বের হওয়া তিন অপরিচিত ব্যক্তি কারা?
উদ্ধারকারী আলামিনের দাবি, তারা গোবিন্দ বাড়ৈর বাড়িতে যাওয়ার সময় রিপন বাড়ৈর বাড়ির দিক থেকে ইজিবাইকে করে তিনজন অপরিচিত ব্যক্তিকে বের হতে দেখেন। ওই তিন ব্যক্তি কারা ছিলেন, তারা কেন সেখানে গিয়েছিলেন, কখন সেখানে পৌঁছেছিলেন এবং গোবিন্দ বাড়ৈর মৃত্যুর সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না—এ বিষয়গুলো পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে কেন সন্দেহের দানা বাধেছে?
এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গোবিন্দ বাড়ৈ কি নিহত হয়েছে না কি অন্য কোন কারণ? ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসার আগেই কেনো স্থানীয়রা সন্দেহ করছে?
নিহতের কন্যা পূর্বা বাড়ৈ কেনো তার ফোন দিয়ে শাকিল কে না ডেকে নিহতের ফোন দিয়ে ডাকলেন? বিষয়টি এমন নয়তো কাটা দিয়ে কাটা তোলা বা সাপও মরলো লাঠিও ভাঙ্গলো না। যতই দিন যাচ্ছে ততই স্থানীয়দের মাঝে নানা রকম প্রশ্নের দানা বাধছে। তবে এসব বিষয় আমলে না নিয়ে সঠিক তদন্ত করে স্থানীয়দের মাঝে আইনের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা জরুরী।
তদন্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, “নতুন করে কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।”বটিয়াঘাটা থানার ওসি মারুফ হোসেনও বলেন, “এ মামলা সম্পর্কে আমার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই।”
তদন্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১১ দিন পরও নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ্যে না আসায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নানামূখী প্রশ্নের আলোচনা সমালোচিত হচ্ছে।

