ঝিনাইদহে ডিসির সঙ্গে ভাইরাল ফোনালাপ, ছাত্রদল নেতা রাফি বহিষ্কার
সাইফুল ইসলাম ঝিনাইদহ সংবাদদাতা-
ঝিনাইদহে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে টেলিফোনে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়ানো কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম রাফিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শনিবার রাতে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ ছাত্রদলের সব ধরনের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফোনালাপে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাফিকে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন প্রিন্সের সঙ্গে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ফোনালাপে রাফি সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলেন। তিনি ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদের নাম উল্লেখ করে ডিলারশিপ বণ্টনে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করেন। এ সময় তিনি ডিলার নিয়োগে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও কৃষিমন্ত্রীর দপ্তরে দেওয়ার কথা বলেন।
এ সময় রাফিকে জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ করে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে শোনা যায়। ফোনালাপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে রফিকুল ইসলাম রাফিকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির শনিবার রাতে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
তবে বহিষ্কারের পর রফিকুল ইসলাম রাফি দাবি করেন, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগের প্রতিবাদ করাই তার অপরাধ। তিনি বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণেই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের আগে কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়নি এবং কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
রাফি আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি তার অবস্থান অব্যাহত রাখবেন।##

