পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের ওসি মোঃ আরিফুল ইসলামের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী,স্টাফ রিপোর্টার, পিরোজপুর:
পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার পুলিশ অফিসার্স মেসের কেয়ারটেকার মো. ইউনুস ফকিরের ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর সদর থানার সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ইউনুস ফকিরের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাখুনিয়ারী এলাকার বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এতে বক্তব্য রাখেন ইউনুস ফকিরের ভাই আনিসুর ফকির, ভগ্নিপতি আব্দুল লতিফ সেখ, ভাতিজি লাকি আক্তার, ইমাম সেখসহ আরও অনেকে।বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত ১৩ এপ্রিল টাকা চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে জেলা ডিবি পুলিশের ওসি আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজন সদস্য ইউনুস ফকিরের ওপর নির্মম নির্যাতন চালান। তাকে মারধর, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া এবং অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়। এমনকি তার শরীরের সংবেদনশীল স্থানে তপ্ত মোম ঢেলে গুরুতর জখম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।নির্যাতনের পর যথাযথ চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্বজনরা জানান, পরে তারা নিজেরাই ইউনুসকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনাটির এক সপ্তাহ পার হলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার বা দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে থানায় মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগও করেন তারা।এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ওসি মাহামুদ হোসেন জানান, ঘটনাটি পুলিশ সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতের মাধ্যমে মামলা হলে এবং পিবিআই দিয়ে তদন্ত করলে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত সম্ভব হবে।এদিকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী জানান, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডিবি পুলিশের দুই সদস্য কনস্টেবল মো. কাওসার ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত ডিবি ওসি আরিফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে পুলিশ হেডকোয়ার্টার, বরিশাল রেঞ্জ ও পিরোজপুর জেলা পুলিশ—এই তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পিরোজপুর শহরতলীর ঝাটকাঠি এলাকায় অবস্থিত পুলিশ অফিসার্স মেসের কেয়ারটেকার মো. ইউনুস ফকির (৪০) ২০১৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ১৩ এপ্রিল ডিবি ওসির কক্ষ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে তাকে আটক করে নির্যাতন করা হয়।
তবে পরবর্তীতে ওই মেসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী শাকিল খান চুরির ঘটনা স্বীকার করলে তার কাছ থেকে সম্পূর্ণ টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর ইউনুসের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত মামলা গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ইউনুস ফকিরের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

