মতলবে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে চলছে রমরমা কোচিং বানিজ্যে — পর্ব – ১
মোঃ খোরশেদ আলম : চাঁদপুরের মতলব দক্ষিন ও উত্তর উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে চলছে রমরমা কোচিং বানিজ্য । যার কারনে দিন দিন পিছেয়ে পড়ছে গরীব মেধাবীরা । সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোয় বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে চালাচ্ছে কোংচিং বাণিজ্য ।
সরজনিনে দেখা যায় মতলব দক্ষিন উপজেলার প্রায় সকল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষিকারা ক্লাসে ভালোভাবে না পড়িয়ে , প্রাইভেট পড়ার জন্য পরোক্ষভাবে চাপসৃষ্টি করে , প্রাইভেট পড়ুয়াদের বিশেষ সুবিধা দেয়া, প্রাইভেট না পড়লে অবহেলা ও অবমুল্যায়ন করা, পরীক্ষার খাতায় নাম্বার প্রদানে বৈষম্য , প্রাইভেটের প্রতিটি ব্যাচে (২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী) এক সাথে কোচিং ক্লাস করতে দেখা যায়। তারা সকল শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে ৫০০ থেকে ৮শ ১ হাজার টাকা করে বেতন নেয় ।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইশমাম বিভিন্ন অভিভাবক ও মা সমাবেশে কোচিং বানিজ্য বন্ধ করা সহ শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ে পাঠদানে আব্তরিক ও মনযোগী হওয়ার নির্দেশ প্রধানের পরও বন্ধ হচ্ছে না কোচিং বাণিজ্য ।
মতলবের কৃতি সন্তান সাবেক সচিব মোঃ জাকির হোসেন কামাল কেএফিটি কলেজিয়েট স্কুলে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যখন ক্লাসে না পড়িয়ে প্রাইভেট পড়ানোর নেশায় মগ্ন হয়,তখনই ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পতন ঘটতে শুরু করে ।
শিক্ষকদের সম্মানহানি না করে কিভাবে পরিস্থিতির উন্নয়ন করা যায়, কিভাবে শিক্ষকদের মনোভাব পরিবর্তনে সচেতন করা যায়, ক্লাসের প্রতি কিভাবে শিক্ষকদের আন্তরিকতা বাড়ানো যায়, এইসব বিষয়গুলোর প্রতি সুনজর দেয়ার জন্য সুযোগ্য ইউএনও মহোদয় এবং প্রধান শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ করেন । ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি কিছুটা কঠোরতা দেখানোয় সচেতন মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন মতলব দক্ষিণের বিচক্ষন ইউএনও ওনার কৌশলি ও বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই সকল প্রতিষ্ঠানের দ্রুতই সাফল্য বৃদ্ধি পাবে ।
সচেতন মহলের মনে করেন কোচিং বানিজ্যে বন্ধ না হলেে শিক্ষার মান উন্নতি করা সম্ভব হবে না । তাদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যের শিকার হতে হয় । তখই নিরবে ঝরে পড়ে গরীব মেধাবীরা কাঙ্খিত ফলাফল থেকে বঞ্চিত হয় প্রতিষ্ঠান । তাই শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা মন্র্রী ও চাঁদপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. জালাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম সগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন । শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের নিয়ে বিস্তারিত থাকবে দ্বিতীয় পর্বে ।

