রংপুরে শিক্ষকসহ পরিবারের চারজনকে হত্যা খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে দুই যুবক গ্রেপ্তার
রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি তদন্তে খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির মতো আলামত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী/আগমনী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)। গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে পাওয়া বিভিন্ন আলামত ও আশপাশের মানুষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে শনাক্ত করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত পরিবারের সঙ্গে আটক দুই যুবকের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাড়ির ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খেয়েছিল। ঘটনাস্থলে পাওয়া কামড়ানো শসা ও খেজুরের বিচিসহ অন্যান্য আলামত তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পোড়ানো চুড়িও তদন্তে একটি সূত্র হিসেবে সামনে আসে। এসব আলামত ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়।
এর আগে রংপুর মহানগরীর দাসপাড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল নমুনা সংগ্রহ করে। পুলিশ, সিআইডি ও গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

