খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জেলা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে পুনর্গঠিত পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ১৪ সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ এবং পরবর্তী সংশোধনী আইনের বিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে।
পুনর্গঠিত পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ম্রাসা থোয়াই মারমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন—শান্তিপ্রিয় চাকমা, রিপন চাকমা, দেব রানী চাকমা, মো. এম এন আবছার, মো. আব্দুল মালেক মিন্টু, মোশাররফ হোসেন, ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা, খনি রঞ্জন ত্রিপুরা, নারায়ণ ত্রিপুরা, রুমেল, মংসাপ্রু চৌধুরী, তাসলিমা সিরাজ সিমা, কুহেলী দেওয়ান ও কালি মগ।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা বা নতুন করে পরিষদ পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবে। সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এদিকে, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৮ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা শেফালিকা ত্রিপুরার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম নতুন নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই নতুন পরিষদের কার্যক্রম কার্যকর হবে।
নতুন পরিষদ নিয়ে খাগড়াছড়ির সাধারণ মানুষের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই পরিষদের মাধ্যমে পার্বত্য জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ আরও বেশি সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ খাগড়াছড়ির সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি-সম্প্রীতি ও জনকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নেবে।

