ঘাটাইলে প্রতিবেশী ভাতিজার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, ৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের দাবি

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় এক বিধবা নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তের কাছে গর্ভের সন্তানের বিষয়ে সমাধান চাইতে গেলে তাকে মারধর ও হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী মোছা. লতিফা (৫০) ঘাটাইল উপজেলার কান্দুলিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী সুরুজ আলী প্রায় চার বছর আগে মারা যান। অভিযোগে তিনি একই এলাকার মৃত জহুর খানের ছেলে মো. ইয়াকুব খান (৫৫)-এর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, ইয়াকুব তার পাড়া-প্রতিবেশী ও ভাতিজা সম্পর্কের হওয়ায় তার সঙ্গে পরিচয় ছিল। প্রায় দেড় বছর ধরে ইয়াকুব তাকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

লতিফার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ইয়াকুব তার বাড়িতে এসে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। তিনি বিশ্বাস করে দরজা খুললে ইয়াকুব তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন। লোকলজ্জা ও সামাজিক ভয়ের কারণে তখন বিষয়টি কাউকে জানাননি বলেও জানান তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১১ আগস্ট বমি বমি ভাব হলে লতিফা স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আল্ট্রাসোনোগ্রাম করান। সেখানে তাকে ৫ সপ্তাহ ৪ দিনের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানানো হয়। এরপর তিনি বিষয়টি ইয়াকুবকে জানালে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন।

পরে গত ২১ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে গর্ভের সন্তানের বিষয়ে সমাধানের কথা বলতে ইয়াকুবের বাড়িতে যান লতিফা। তার অভিযোগ, এ সময় ইয়াকুব তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয় বলে দাবি তার।

লতিফা আরও জানান, তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা অভিযুক্তের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। এরপর ইয়াকুব কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী লতিফা বলেন, “আমি একজন অসহায় মানুষ। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. ইয়াকুব খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযুক্ত করা হবে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে চিকিৎসা প্রতিবেদন, আল্ট্রাসোনোগ্রাম রিপোর্ট, সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনায় থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে কি না এবং পুলিশ এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে—তা নিশ্চিত হওয়া গেলে সংবাদটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *