শেরপুর অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার ভাড়াটিয়া প্রতারক সুলতান মাহমুদ জমির মালিকানা দাবী, একাধিক মামলা ও তদন্তে প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ

বিশেষ প্রতিনিধি।
শেরপুর অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার ভাড়াটিয়া বিশ্বস্ততা অর্জন করে সুযোগ বুঝে জমি নিজের দাবি করে প্রতারক সুলতান মাহমুদ। এ নিয়ে একাধিক মামলা ও তদন্তে প্রশাসনের ব্যাপক অনিয়ম নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এ,এস,আই আয়াতুল ইসলামকে নিয়ে চলছে নিন্দা ও আলোচনা সমালোচনার ঝড়।
মামলার উৎপত্তি: ভাড়া আদায় বাবদ সর্বপ্রথম সি.আর মামলা নং-৪৫৭/২৪ সি.আই.ডি পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হযরত আলী তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করে বাদী আমজাদের পক্ষে যাহার সত্যতা প্রমাণিত হয়। তদ্রুপ ইউনিয়ন ভূমি সহকারীর তদন্ত প্রতিবেদন দেখা যায় বাদী আমজাদ হোসেনের পক্ষে ইং ০২/০২/২০২৫ তারিখে প্রতিবেদনটি প্রকাশ পায়। একই সূত্র বরাতে ভূমি উদ্ধারের সি.আর মামলা নং-৪৮৯/২৪, তাং-০২/১২/২০২৪ ইং। ইহাতেও প্রতিবেদনে মোঃ শহিদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রীবরদি উপজেলা সেটিও আমজাদের পক্ষে ইং ০৪/০২/২০২৫ তারিখে সত্য প্রতিবেদন দেয়।
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা জেলা লিগ্যাল এইড (দায়রা জজ আদালত) শেরপুর অফিস কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ্য যে, বাদী আমজাদের পক্ষেই সত্যতা পাওয়া যায়, যাহার তারিখ: ২৬/০৬/২০২৫ ইং। উল্লেখ থাকে যে, বাদী-বিবাদীর পরস্পর তিনটি মামলাই যথাক্রমে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ জেলা জজ কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদনের চাওয়ার সূত্র ধরে প্রতিটি প্রতিবেদনই আমজাদ মিয়ার পক্ষে সত্যতা প্রমাণিত হয়। অর্থাৎ আসামী সুলতান মাহমুদ বাদীর পক্ষে তিনটি মামলার প্রতিবেদনেই আসামীর মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আসামী সুলতান মাহমুদ বাদী আমজাদ হোসেনসহ তার স্ত্রীর নামে একটি কাউন্টার মিথ্যা মামলা করে, যাহার সি.আর মামলা নং- ১১৪২/২৫। উল্লেখ্য, মামলাটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শেরপুর সদর থানা ওসি বরাবর তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আদেশ দেন। অত্র তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খানকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তাৎক্ষনিক ওসি (তদন্ত) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান সরেজমিনে দফায় দফায় তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন, যাহাতে প্রমাণিত হয় বাদী সুলতান মাহমুদের মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। অতঃপর এই বাদী প্রতারক সুলতান মাহমুদ এই মামলাটিতে পুনরায় না-রাজি জ্ঞাপন করে। সেই সূত্র মতে শেরপুর আদালত থেকে উক্ত মামলাটি পি.বি.আই জামালপুর বরাবর পুনরায় তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। অবশেষে পি.বি.আই জামালপুর কর্তৃপক্ষ একজন এখতিয়ার বহির্ভূত এ.এস.আই মোঃ আয়াতুল ইসলাম, বিপি-৮০০১০২৬৮৫৫ কে তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য নির্দেশনা দেন। যাহার সূত্র ধরে পি.বি.আই এস.পি মহোদয়ের অফিস কক্ষে এ.এস.আই মোঃ আয়াতুল ইসলাম বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে সাক্ষীসহ হাজির করেন। এস.পি অফিস কক্ষে ঢুকা মাত্রই বলেন ‘আর্মি সব মাদারচোদ’ তাহাতে উভয় পক্ষ কেহ কোন উত্তর করেন নাই। এস.পি’র ভাস্য মতে আমজাদ হোসেন জমিতে গেলে সুলতান মাহমুদ মার্ডার করে ফেলবে। উভয় পক্ষের সামনে উক্ত মামলার বাদী সুলতান মাহমুদকে জমি সম্পর্কিত তথ্য জানতে চাইলে, কোন প্রকার কাগজ বা লেন-দেন সম্পর্কে কোন উত্তর দিতে পারে নাই। তাছাড়া উক্ত মামলার আই.ও পি.বি.আই জামালপুর এর এ.এস.আই মোঃ আয়াতুল ইসলাম, বিপি-৮০০১০২৬৮৫৫ বাদী সুলতান মাহমুদ নিকট হতে নগদ ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা নিয়েছে এবং বিবাদী আমজাদ হোসেনের বাড়ীতে এসে তার কাছে ২,৫০,০০০/- (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা দাবী করেন এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায় যে, টাকা না দিলে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে তাকে ও তার স্ত্রীকে জেলে পাঠাবে। অতঃপর আমজাদ হোসেন অনেক অনুরোধ করে নগদ ৫০,০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) টাকা তাৎক্ষনিক তার হাতে দেয়। পক্ষান্তরে বিবাদী সুলতান মাহমুদের নিকট থেকে জামালপুর ব্রীজের পাশে কাঁচা মালের আড়তের সামনে থেকে কনস্টেবল মাহফুজ এবং এ.এস.আই আয়াতুল ইসলাম ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা নেয়, সর্বমোট ২,৫০,০০০/- (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা মোঃ সুলতান মাহমুদের নিকট থেকে নিয়ে মনগড়া, মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, দালিলিক প্রমাণ ছাড়া কাল্পনিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দেন। যাহা কয়েকজন লোকের ভাস্যমতে সাজানো এবং টাকার বিনিময়ে প্রতিবেদনটি শেরপুর আদালতে প্রেরণ করেন, যাহা কোন মতে সার্বজনীন আকারে গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ ঊর্ধ্বতন ২ জন কর্মকর্তা যথাক্রমে (১) শেরপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান, (২) ওসি, সিআইডি মোঃ হযরত আলী তদন্তের পর একজন এ.এস.আই কিভাবে এই মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দেন তাহা এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসা।
(বিস্তারিত জানার জন্য আগামীতে পত্রিকার পাতায় চোখ রাখুন)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *