খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ লোডশেডিং এ অতিষ্ট মানুষ, বটিয়াঘাটা শীর্ষে

সেখ রাসেল, বিভাগীয় প্রধান, খুলনা:
খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সর্বোচ্চ লোডশেডিং দেখা দেয়। খুলনার বিভিন্ন এলাকায় দিনের বিভিন্ন সময় চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। প্রতিবার কোথাও একঘণ্টা আবার কোথাও ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। বুধবার দুপুরে চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ২০৩ মেগাওয়াট। ফলে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। প্রচন্ড গরম আর বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ। দিনে-রাতে ঘন্টায় ঘন্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে-আর আসছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। সকালে এমনকি মধ্যরাতেও বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ থাকছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ফিডার ভিত্তিক লোডশেড দিতে হচ্ছে।
খুলনা বটিয়াঘাটায় দিনে রাতে অসংখ্যবার বিদ্যুৎ থাকছেনা। কখনও কখনও আসলও সর্বোচ্চ ১/২ ঘন্টার মধ্যে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাত ৯ থোক ১০ বাজলে বিছিন্ন হয় বিদ্যুৎ। আসে প্রায় রাত ১১/১২ টার দিকে। প্রতি রাতে প্রায় ৩/৪ বার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের ঘটনা ঘটেই চলেছে। সকালে ফজরের নামাজের পর পরই যাচ্ছে বিদুৎ রান্না করা হয়ে উঠছে খুবই কঠিন। তাছাড় রাতে অতি মাত্রায় বিদ্যুৎ যাওয়ায় চোরের উপদ্রব বেড়ে গেছে। বটিয়াঘাটাবাসী এক অসহ্য জীবন অতিবাহিত করছে বিদ্যুৎ কষ্টে।

ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ও বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলাসহ মোট ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। এই ২১ জেলায় বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৩১৬ জন।
ওজোপাডিকো সূত্র আরও জানায়, ২১ জেলায় ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় বুধবার দুপুর ১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮১০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০৭ মেগাওয়াট, অর্থ্যাৎ লোডশেডিং ছিল ২১০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে শুধুমাত্র খুলনা জোনে লোডশেডিং ছিল ১৫৫ মেগাওয়াট। এদিন খুলনায় ৬২৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৪৬৮ মেগাওয়াট। আর বরিশাল জোনে লোডশেডিং ছিল ৪৮ মেগাওয়াট। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় খুলনাসহ ২১ জেলায় লোডশেডিং ছিল ১২৫ মেগাওয়াট।

নগরীর খালিশপুর এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী শানু বলেন, তিন মাস পর এইচএসসি পরীক্ষা। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে দিনে ও রাতে লেখাপড়ায় সমস্যা হচ্ছে। একে গরম তার ওপর বিদ্যুৎ যাচ্ছে আর আসছে। রাতেও প্রচন্ড গরম থাকে। পড়তে বসা যায় না। অবশ্য এটি বৈশ্বিক সমস্যা। তবে এটি তদারকি করা প্রয়োজন।

খুলনার ডুমুরিয়ার আরশনগর গ্রামের নূরজাহান খাতুন বলেন, প্রচন্ড রোদ। অসহ্য গরম। সেই সঙ্গে দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরে থাকা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে। বিদ্যুৎ যাওয়ার পরে এক বা দেড় ঘন্টা পরে বিদ্যুৎ আসে। ঘন্টাখানিক থাকে, আবার চলে যায়। দিনে-রাতে ৮ থেকে ১০বার বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে বিদ্যুৎ যাওয়ার জন্য গরমে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। এছাড়া ইলেক্ট্রনিকস পণ্য নষ্ট হচ্ছে। ফ্রিজে থাকা খাবারও নষ্ট হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, খুলনায় বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তাপদাহের কারণে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, তাপদাহ চলছে। যে কারণে গরম বেশি। তবে আগামী ২৫ বা ২৬ এপ্রিল খুলনায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী (এনার্জি, সিস্টেম কন্ট্রোল এন্ড সার্ভিসেস) মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে লোডশেডিং বেড়েছে। বিদ্যুতের সরবরাহ কম পাচ্ছি, তাই কম দিচ্ছি। বৈশি^ক অবস্থার কারণে জ্বালানী সংকটে এই সমস্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুন মাসে ৮০৯ মেগাওয়াট চাহিদা ছিল। আর বুধবার দুপুর ১টায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৮১০ মেগাওয়াট। আরও বাড়তে পারে। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০৭ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ২০৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে খুলনা ও বাগেরহাটের ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *