চরম ভোগান্তিতে বটিয়াঘাটার খেয়াঘাট দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে যাত্রীরা, দ্রুত ব্যবস্থার দাবি

সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনা বটিয়াঘাটা উপজেলার রায়পুর বারোআড়িয়া ও ফুলবাড়ী বারোআড়িয়া দুটি জনগুরুত্বপূর্ণ খেয়া ঘাট। যাদ্রীরা প্রচন্ড রকমের জীবন ঝুঁতি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। চরম ভোগান্তির কথা জানালেন যাত্রীরা, আমরাও সরেজমিনে যেয়ে দেখা মেলে তার বাস্তব চিত্র।

উক্ত খেলা ঘাট দিয়ে খুলনা জেলা শহরের সাথে কম সময়ে স্বল্প খরচে যাতায়াতের সুবিধার্থে উপজেলার সুরখালী ইউনিয়ন, পাশ্ববর্তী ডুমুরিয়া, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর পানি কমে যাওয়ায় অনেক জায়গায় হাঁটু পর্যন্ত নেমে পার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। ফলে নারী, শিশু, বয়স্ক মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন এসব ঘাট ব্যবহার করে সুরখালী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকা থেকে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা স্বল্প সময়ে জেলা শহরে যাতায়াত করেন। মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে হাজারো মানুষ।
আমাদের সামনেই একটি ঘটনা ঘটে যেখানে দেখা যায় একটি মহিলা তার শিশু বাচ্চাকে কলে নিয়ে পার হওয়ার সময় দু’জনেই পড়ে যায়। এক পর্যায়ে অন্যান্য যাত্রীদের সহযোগীতা তার শিশু বাচ্চাটিকে ও তার মাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

পূর্বে যাত্রীদের সুবিধার্থে বাঁশের সাঁকো থাকলেও বর্তমানে তা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সাঁকো নির্মাণ বা বিকল্প নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ঘাট ইজারাদারদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাঁকো নির্মাণের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বলছে, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় ইজারাদারদের নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এদিকে প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, বিগত বছরে উক্ত খেয়াঘাট দুটির ইজরা গ্রহীতা ছিলেন গাওঘরা এলাকার মোকছেমুল, কল্যাণ শ্রী এলাকার মাসুদ ও বারোআড়িয়া এলাকার মোঃ খোকন। বিগত বছরের ইজারা গ্রহীতারা যাত্রীদের পারাপারের সুবিধার্থে পাকা ঘাট থেকে নদীর দুই তীরে পানি পর্যন্ত বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাত্রীদের পারাপার করে আসছিল। বর্তমানে ঘাটের পাটনি হিসেবে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় ইজারা গ্রহণ করেছেন বারোআড়িয়া এলাকার রতন কুমার দাশ এবং তিনি যাত্রীদের কাছ থেকে পারাপারে ৫ টাকা নিচ্ছেন। কিন্তু বিগত বছরের ইজারা গ্রহীতারা তাদের নির্মিত বাঁশের সাঁকো খুলে নিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পারাপারের ঝুঁকি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। অথচ পাশ্ববর্তী কৈয়া বাজার ও গাওঘরা ঘাটের সাঁকো ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মান করলেও তাদের ইজারার মেয়াদ কাল শেষ হলেও তাদের নির্মিত বাঁশের সাঁকো খুলে নিয়ে যায়নি।

এব্যাপারে ঘাটের ইজারা গ্রহীতা ঘাটে সাঁকো নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট মৌখিকভাবে আবেদন করেন। নির্বাহী অফিসার থান্দার কামরুজ্জামান সরকারি বরাদ্দ না থাকায় ইজারাদারদের নির্মাণ করতে বলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *