মোরেলগঞ্জে গোপালচাঁদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ভাঙা ও গাছ বিক্রির অভিযোগ নিয়ম না মেনে অপসারণে প্রশ্ন, জানেন না বর্তমান সভাপতি ইউএনও

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের গোপালচাঁদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ভেঙে অপসারণ এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি-বিধান ও টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভবন অপসারণ এবং গাছ কর্তন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল্লাহ এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার গোপালচাঁদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে তেমন কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বিদ্যালয়ের পুরাতন সরকারি ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই ভবনটি ভেঙে অপসারণ করা হয়।

একই সময়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের পাঁচটি গাছ কেটে ফেলা হয়। এর মধ্যে চারটি গাছ বিক্রি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বাকি একটি গাছ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরাতন ভবনের ইট, রড ও অন্যান্য মালামাল বিক্রি করে বিদ্যালয়ের উন্নয়নকল্পে অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হলেও এ নিয়ে স্বচ্ছতা নেই। হিসাব-নিকাশ নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৮৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার মান উন্নত হলেও অবকাঠামোগত সংকট এখনো প্রকট। বিদ্যালয়ে ল্যাবরেটরি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাব রয়েছে।

এ বিষয়ে গোপালচাঁদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দ্রেবব্রত রায় বলেন, “বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী দপ্তরকে অবহিত করে ভবন অপসারণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গাছগুলো কাটা হয়েছে। পাঁচটি গাছের মধ্যে একটি বিদ্যালয়ের কাজে রাখা হয়েছে। ভবনের ইট দিয়ে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের সমন্বয়ে রেজুলেশনের মাধ্যমে আয়-ব্যয় কমিটি গঠন করে এসব কাজ করা হয়েছে।”

মোরেলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “গোপালচাঁদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন অপসারণের বিষয়ে আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। আমি প্রধান শিক্ষককে বিধিমোতাবেক শিক্ষা প্রকৌশলীকে অবহিত করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবন অপসারণের পরামর্শ দিয়েছিলাম। গাছ কর্তনের বিষয়ে আমি অবগত নই।”

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি হাবিবুল্লাহ বলেন, “ওই বিদ্যালয়ে আমি সভাপতি রয়েছি। তবে পূর্বের অ্যাডহক কমিটির সময় ভবন অপসারণ ও গাছ কর্তন করা হয়ে থাকতে পারে। আমাকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন অপসারণ হয়ে থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি ভবন অপসারণ, গাছ কর্তন ও সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না হলে তা জনস্বার্থের পরিপন্থী।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *