খুলনা বটিয়াঘাটায় উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে শৈলমারী নদী দখলের মহাউৎসব

সেখ রাসেল, বিভাগীয় প্রধান, খুলনা:
খুলনা বটিয়াঘাটায় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ-কে উপেক্ষা করে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে শৈলমারী ভরাটি নদী দখলের মহোৎসব ।
সূত্রে প্রকাশ, উপজেলার হোগলবুনিয়া সরকারী বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পূর্ব পাশে ভরাটি শৈলমারী নদী দখল করে গড়ে তুলেছে কাঁচা-পাকা ইমারত। এছাড়াও বেড়ীবাঁধ দিয়ে দখল করে নির্মাণ করছে মৎস্য ঘের।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন সরকার’র এলজিইডি বিভাগ প্রায় বারো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে বটিয়াঘাটা শৈলমারী ব্রীজ। ব্রীজটি নির্মানের পর থেকে উক্ত নদীর নাব্যতা হারিয়ে যেতে শুরু করে । যা বর্তমানে শৈলমারী নদীটি সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে এবং অনেক জায়গা চর জেগে মাঠে রূপান্তরিত হয়েছে ।‌ যার ফলে নদী পথে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের পাশাপাশি বটিয়াঘাটার বিভিন্ন ইউনিয়ন সহ পার্শ্ববর্তী ডুমুরিয়া উপজেলার সাধারণ মানুষের পানি নিষ্কাশন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে এলাকায় জলবদ্ধতা সৃষ্টির আশংকা দেখা দিয়েছে ।

বড় পরিতাপের বিষয় ইতিমধ্যে পাশ্ববর্তী ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বোরো মৌসুমে ধানের চাষ করতে পারেনি। অন্যদিকে শৈলমারী নদীটি ভরাটের পর থেকে নদীর দুই তীরের ভূমি মালিক, প্রভাবশালী দখলবাজেরা ও কিছু ভূমি দস্যূ পর্যায়ের নেতারা প্রশাসন দলীয় হাইকমান্ডের নাম ভাঙিয়ে নদী দখলের মহোৎসব মেতে উঠেছে । সরেজমিনে পরিদর্শন গিয়ে দেখা গেছে,‌ ভরাটি নদীর কোন অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি। নদীতে শুধু বেড়ীবাঁধ দিয়ে মৎস্য ঘের ও ঘরবাড়ি দেখা যাচ্ছে ।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোয়াইটওয়াশ হিসেবে মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও দখলে থাকে ভূমি দস্যুদের। অপরদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)‌, শোয়েভ শাত-ঈল-ইভান এর নির্দেশনায় গত রবিবার জলমা ইউনিয়ন সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান হোগলবুনিয়া বোর্ড প্রাথমিক স্কুলে পূর্ব পাশে সরজমিনে পরিদর্শন শেষে সরকারি নদীতে নির্মিত ঘর ৩ দিনের ভিতর সরিয়ে নেয়ার এবং শ্রেণী পরিবর্তনের নদী ভরাটি জায়গা দখলদারদের পুনরায় মাটি কেটে সমান করার নির্দেশ প্রদান করেন । কিন্তু সরকারি ভাবে নায়েবের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধ দখলদারেরা বসে আছে।

অন্যদিকে নদীটি খননের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমীর এজাজ খান নদীটি খননের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। এব্যাপারে অবৈধ দখলবাজদের ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে স্থানীয়রা। উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) শাত-ঈল ইভান জানান,”শৈলমারী নদীটি ভরাট হওয়ার পর থেকে প্রায় ২/৩ বছর ধরেই দখল করে আসছে। আমি বটিয়াঘাটা আসার পর থেকে এ বিষয়ে কিছু কিছু জায়গায় অভিযান পরিচালনা করি কিন্তু সেখানে আমাদের বিব্রত হতে হয়। কারণ যাদের উচ্ছেদ করতে যাই তারা বলে “দেখেন ঐ পশে দখল করে ঘের করছে। আমরা করলে দোষ কোথায়” আসলে এই ছোট ছোট অভিযানে এই দখল বন্ধ করা খুবই কঠিন। এই নদী দখল মুক্ত করতে গেলে বড় পরিসরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। আমরা এ বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি। আশা করি দ্রত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাছাড়া এই নদী খননের জন্য বাজেট হয়েছে অতি দ্রুত খননের কাজ শুরু হবে। “১নং জলমা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কমিশনার কামরুজ্জামান জানান,”আমি এই অফিসে আসার পর থেকে স্যারদের নির্দেশনায় এই শৈলমারী নদী দখল মুক্ত করার জন্য ধান রোপনে বাধা, ঘের করতে ও ঘর নির্মাণে বাধা সহ বিভিন্ন ভাবে দখল মুক্ত করার চেষ্টা করে আসছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *