‘বিরোধীদলের ঘরে একাত্তর-নব্বইয়ের ট্রফি নাই, বিএনপির ৩ ট্রফিই আছে’ এ বক্তব্য নিয়ে বিরোধী দলের নেতা আপত্তি জানান এবং স্পিকার বিরোধীদলের এমপিদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনাক্ত
ডেস্ক রিপোর্ট:
জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১, ১৯৯০ এবং জুলাই-আগস্ট; তিনটি আন্দোলনই আমাদের ঘরে। এ রকম ট্রফি অন্য রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখাতে পারবে না। আওয়ামী লীগ একাত্তর বলতে পারবে, নব্বই বলতে পারবে। জুলাই-আগস্টের ট্রফি কিন্তু তাদের ঘরে নাই। বিরোধী দলের বন্ধুরা জুলাই-আগস্ট বলতে পারবে, একাত্তর এবং নব্বইয়ের ট্রফি কিন্তু তাদের ঘরে নাই।’ ‘একমাত্র দল বিএনপি, যাদের ১৯৭১, ১৯৯০ ও জুলাই-আগস্ট; তিনটি ট্রফি আমাদের ঘরে রয়েছে। বিরোধী দল হই চই করে নব্বইয়ে তাদের (অবদানের) কথা বলতে পারে, কিন্তু ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ঢাকঢোল পিটিয়ে তারাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে গিয়েছিল, আমরা যাইনি।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বক্তব্যের জের ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বিরোধীদলের ঘরে একাত্তর ও নব্বইয়ের ট্রফি নাই। তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি এমন একটি সংগঠন যারা তিনটি আন্দোলনকে ধারণ করে এবং তিনটি আন্দোলনের ট্রফি তাদের ঘরে আছে।’ আজ মঙ্গলবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মূল ভূমিকা কোন দলের ছিল, কোন নেতার ছিল…আমরা সবাই আন্দোলন করেছি। এটি অস্বীকার করার সুযোগ নাই, কিন্তু ক্যাপ্টেন একজনই থাকে। যে ক্যাপ্টেনের কাছে ক্যাপ্টেনের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান লন্ডনে গিয়ে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছিলেন বলেই এ দেশে একটি অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে এবং সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিরোধী দল ও আমরা একটি ঐতিহাসিক সংসদে এসে উপস্থিত হতে পেরেছি।’
বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এ সময় প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু বক্তব্য ‘অসত্য’ দাবি করে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার আহ্বান জানান।
স্পিকার বলেন, ‘বিরোধী দলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমি নিজেও মাঠে থেকে দেখেছি, গাজী নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৩) একজন মুক্তিযোদ্ধা।’
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেওয়া বক্তব্য সাধারণত রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। মীর শাহে আলমের এই বক্তব্যও তেমনই একটি বার্তা, যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে।
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে সংসদে দেওয়া এ ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে এবং জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দেয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মীর শাহে আলমের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলো কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায় এবং এটি দেশের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে

