স্ট্যান্ডের অভাবে গোয়ালমারী বাজারে তীব্র যানজট, চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ

মোঃ জাবেদ হোসেনঃ
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোয়ালমারী ইউনিয়নের গোয়ালমারী বাজার এলাকায় সড়কের দুই পাশে নির্দিষ্ট যানবাহন স্ট্যান্ড না থাকায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ, পথচারী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোয়ালমারী বাজার সংলগ্ন সড়কের দুই পাশে অবাধে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দাঁড়িয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার অর্ধেকের বেশি জায়গা দখল করে রেখেছে এসব যানবাহন। ফলে সংকীর্ণ হয়ে পড়া সড়কে একসাথে দুই দিকের যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে যানজট লেগেই থাকে।
বিশেষ করে বাজারের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজটও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এতে করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, যানজটের কারণে একটি অ্যাম্বুলেন্সকেও দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়েছে, যা জরুরি সেবা প্রদানে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, বাজার এলাকায় কোনো নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় চালকরা যেখানে-সেখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করেন। এতে করে সড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে গোয়ালমারী বাজার এলাকায় নির্দিষ্ট যানবাহন স্ট্যান্ড স্থাপন, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হোক। পাশাপাশি সড়ক প্রশস্তকরণ ও যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
নচেৎ, দিন দিন এই যানজট সমস্যা আরও প্রকট হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *