অতীতে পড়ে থাকলে এক চোখ, ভুলে গেলে দুই চোখ অন্ধ, প্রধানমন্ত্রী পক্ষান্তরে ৭১ কখনও অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীত ভুলে গেলে দুই চোখ অন্ধ। গত ১৭ বছরে অতীত নিয়ে এত নড়াচড়া হয়েছে যে এতে দেশের মূল ইতিহাস ঢাকা পড়ে গেছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলে আমাদের সম্পদে সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আমরা যদি একসঙ্গে লড়াই করি তবে দেশের যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব। সরকারপ্রধান আরও বলেন, আলোচনা-সমালোচনা ও গবেষণার নামে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে খাটো করা যাবে না। অতীত ভুলে গেলে চলবে না, অতীত নিয়ে বেশি চর্চা ভবিষ্যৎ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র জিয়াউর রহমান। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্বাধীনতার গৌরবগাঁথা নিয়ে আলোচনা হবে, গবেষণা হবে। কিন্তু আলোচনা বা গবেষণার নামে এমন কিছু বলা ঠিক হবে না যেটা আমাদের স্বাধীনতার মূল ইতিহাসকে খাটো করতে পারে।
পক্ষান্তরে, একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভায় বক্তব্যকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা কারও বিজয়কে ছিনিয়ে নিতে চাই না, কারও ভূমিকাকে আমরা কেড়ে নিতে চাই না। কিন্তু সবাই মিলে একাত্তরকে আমরা আগে সম্মান করব, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সমুন্নত রাখব। তারপরে আসবে পঁচাত্তর, ঊনআশি, নব্বই, চব্বিশসহ সবকিছু। যারা সংবিধানের প্রস্তাবনায় চব্বিশ এবং একাত্তর একত্রে দেয়ার জন্য প্রস্তাব করেছিলেন, সেই বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলছি- একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলবে না। বাংলাদেশের সবচাইতে গৌরবজনক অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ। তিনি বলেন, একটা স্বৈরাচারকে, ফ্যাসিস্ট সরকারকে পতনের জন্য যে আন্দোলন হয়েছে, সেটা কেবল জনদাবির মুখে স্বৈরাচার পতন আন্দোলন। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, রাষ্ট্র নতুনভাবে বিনির্মিত হয়নি। রাষ্ট্র আমাদের ছিল, অর্জিত হয়েছে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে, সেই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হবে। কোনো স্বৈরাচার যাতে বাংলাদেশে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত না হয়, তার আগমন-উৎপাদন-উৎপত্তি না হয়, সেই লক্ষে আমরা গণতান্ত্রিক চর্চা করতে থাকব। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রবর্তন এবং চর্চা ও লালনার মধ্যদিয়ে আমরা সংসদে সেই সমস্ত সকল কার্যক্রম আলোচনার মধ্যদিয়ে সমঝোতার মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
অপরদিকে, একই অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরে আবারও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, যারা পাকিস্তানী হানাদারদের সহযোগিতা করেছে, যারা দেশের মা বোনদের সম্ভ্রম হানিতে সহযোগিতা করেছে— সেই অপশক্তি আবার নানা ষড়যন্ত্র করছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে বলেও জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর অনেক লড়াই সংগ্রাম হয়েছে, বিএনপি লড়াই চালিয়ে গেছে, মাথানত করে নাই। নতুন করে এক বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখছে প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বেই বিনির্মিত হবে নতুন বাংলাদেশ।

