শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড ভুট্রা ফসল, ঋণের বোঝায় হতাশ কৃষক ।

মোঃ আরিফুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার

শেরপুরের নকলায় কয়েকদিনের শিলাবৃষ্টিতে মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্ত ভুট্টা চাষীরা, লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ভুট্টা ফসল। আগাম শুরু হওয়া বৃষ্টি তারপর বজ্রপাত সহ শিলাবৃষ্টি। চলতি মৌসুমের মার্চ মাসে কয়েকদিনের আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়া যেন ভুট্টা চাষীদের মরণফাঁদ।

নকলা উপজেলার পাঠাকাটা, চন্দ্রকোনা, নারায়নখোলা এবং উরফা ইউনিয়নগুলোতে মাঠের পর মাঠ ভুট্টা ক্ষেত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। পরিপক্ব হওয়ার আগেই ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে কৃষকরা বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতি বিঘা জমিতে ২০-২৫ হাজার টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন প্রান্তিক চাষিরা, যার ফলে তাদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

ফসল ঘরে তোলার ঠিক কয়েকদিন আগে এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভুট্টা চাষীরা।

অনেক কৃষক বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছে, আবার অনেকে সার, কীটনাশক বাকি নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছিলো এখন তারা পথে বসার উপক্রম।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আঃ ওয়াহেদ খান জানিয়েছেন, নকলা উপজেলায় প্রায় ২২২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। প্রাথমিক জরিপে ৯ হেক্টর জমির ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে কোন সহায়তা বা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস নেই কৃষি বিভাগ থেকে। তিনি বলেন আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

কৈয়াকুড়ী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান এসডিএফ থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ভুট্টা করেছিলো, শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টাক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে এনজিও প্রতিষ্ঠান।

পাঠাকাটা ইউনিয়নের মুছা মিয়ার ৭৫ শতাংশ জমিতে ভুট্টা চাষের জন্য এসডিএফ থেকে ১লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলো, শিলাবৃষ্টিতে সব ভুট্টা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কিস্তি পরিশোধের হতাশায় ভুগছেন মুছা মিয়া।

মোঃ আফছর আলী ৩২০ শতাংশ জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলো, সব তছনছ করে দিয়েছে শিলাবৃষ্টি।

উক্ত ঋণের বিষয়ে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন(এসডিএফ) এর উপজেলা কর্মকর্তা নরেশ রাম বলেন, আমরা বিষয়টি জানতাম না, আপনারা যেহেতু জানিয়েছেন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিবো।

নকলা নালিতাবাড়ী উপজেলার মাননীয় সংসদ জনাব ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী সংবাদদাতা কে বলেন, শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং করণীয় বিষয়ে ইতিমধ্যেই তালিকা প্রণয়নের জন্য কাজ করছি।
তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে আলোচনা করে সরকারী, বেসরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রাণ করা হবে ।
নকলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম সাহেব বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রণয়ন এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অর্থাৎ পরবর্তীতে কৃষি প্রণোদনা ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণের জন্য নকলা কৃষি কর্মকর্তাকে পরামর্শ প্রদান করেন। পরবর্তীতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *