ওসমান হাদিকে হত্যার পরিকল্পনাকারীরা জানাজার সামনের কাতারেই ছিল

সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারীরা তার জানাজা নামাজের সামনের কাতারেই ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে ফাতিমা তাসনিম জুমা লিখেছেন, ‘হুটহাট মাথায় এসে হিট করে, ভাইরে (হাদি) হত্যার পরিকল্পনাকারীদের কেউ কেউ হয়তো ভাইয়ের জানাজার সামনের দুই তিন কাতারেই ছিল। আমরা হয়তো বুঝি নাই, চিনি নাই, কিচ্ছু করতে পারি নাই। সকল ষড়যন্ত্র উন্মোচিত করে দাও খোদা। আমরা তোমার সাহায্য ছাড়া নিরুপায়।’

ওই পোস্টের এক কমেন্টে জুমা বলেন, ‘আগামীকাল কোর্টে শুনানি। চার্জশিট যা দিয়েছে শুধু মাসুদ আর বাপ্পি আছে হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ঘটনা ঘটার পরের সব আছে। আগের কিছুই নাই। মাস্টারমাইন্ডদের বের করা কি পসিবল না, নাকি ইচ্ছে করেই করতে দেয় না জানি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এরা কারা, কী এমন শক্তি তাদের যে তাদের কখনো সামনে আনা পসিবল (অসম্ভব) না, শুনে আমাদের মেনে নিতে বলা হয়? এরা কি হাসিনার চাইতেও শক্তিশালী?’

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে মারাত্মক আহত হন ওসমান হাদি। রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি লাগে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মৃত্যু হয় তার।

এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার পর প্রধান আসামি শ্যুটার ফয়সালের বাবা মাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত ফয়সালসহ তার সহযোগীকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। তারা ভারতে চলে গেছেন ধারণা করা হচ্ছিল। অবশেষে আজ পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্বীকার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *