ঝিনাইদহে নারীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ধর্ষন ও পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ

মশিউর রহমান ঃ
পৈচাশিক ও বিভৎস্য কায়দায় ঝিনাইদহে শিউলি খাতুন নামে এক ডিভোর্সি নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
নির্য়াতিত নারীর অভিযোগ তাকে গাড়িতে তুলে ধর্ষন করা হয়েছে। শুধু ধর্ষন করেই দুর্বৃত্তরা ক্ষ্যান্ত হয়নি, ওই নারীর স্পর্শকাতর স্থানে সিগারেট ও মোমবাতির আগুন দিয়ে পুড়িয়ে যৌনাঙ্গ কেটে ক্ষত বিক্ষত করা হয়েছে।

বর্বর এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকার একটি ব্রীজের উপর। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার শিউলি ঝিনাইদহ সদর থানায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষন ও নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন, যার মামলা নং ৬/২৬। মামলার আসামীরা হলেন, শৈলকুপার শহরের হাবিবপুর মোল্লাপাড়ার কামরুল খোন্দকারের ছেলে নামজুল খোন্দকার ও তার ভাই শওকত আলী খোন্দকার।
মামলার এজাহারের উদ্বৃতি দিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন মঙ্গলবার বিকালে জানান, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঝিনাইদহের গিলাবাড়িয়া নবগঙ্গা ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্ট থেকে বাড়ি ফেরার জন্য রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এই সময় সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস এসে তার পাশে দাঁড়ায় এবং তাকে জোরপূর্বক গাড়ির ভেতরে তুলে নেয়। তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, তথ্য প্রযুক্তি যাচাই বাছাই করে ভিকটিমের অভিযোগের সত্যতা খোঁজা হচ্ছে।

নির্যাতনের শিকার শিউলি আক্তার অভিযোগ করেন, “গাড়িতে তিনজন ছিল। তাদের মুখ বাঁধা অবস্থায় থাকায় তিনি কারও মুখ দেখতে পারেননি। তবে তার সাবেক স্বামী নাজমুল খন্দকারের কন্ঠস্বর শুনে তাকে চিনতে পারেন”।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তারা শিউলিকে গাড়ির ভেতরে নিয়ে মুখ ও হাত শক্ত করে বেঁধে ফেলে। এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সিগারেট বা মোমবাতি দিয়ে সারা শরীর নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে পুড়িয়ে দেয় এবং যৌনাঙ্গ ক্ষত বিক্ষত করে।

শিউলি আক্তার জানান, “ইতিপুর্বে তার সাবেক স্বামী তার আরাপপুরের বাসায় প্রবেশ করে ধর্ষন করেন এবং ঘরে থাকা জিনিসপত্র জোরপুর্বক নিয়ে যান। গত বছরের মে মাসে শিউলি আদালতে নারী নির্যাতনের মামলা করলে নাজমুল খোন্দকার তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু সে বিয়ে বেশিদিন টেকেনি”।

বিষয়টি নিয়ে অজ্ঞাত স্থান থেকে নাজমুল খোন্দকার মুঠোফোনে জানান, “তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ঘটনার সময় ছিলেন না। তথ্য প্রযুক্তি ও ডাক্তারী পরীক্ষা করলে বিষয়টি মিথ্যা বলে প্রমানিত হবে”।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সামসুল আরেফিন জানান,
শিউলি আক্তারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *