ভিটেমাটি দখলের চেষ্টা ও হামলার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী
সাইফুল ইসলাম ঝিনাইদহ সংবাদদাতা- ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর সোনালীপাড়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির পথ বেছে নিয়েছে। কয়েক দফা তিনি ও তার পরিবার প্রাণনাশের হুমকির মুখেও পড়েছেন।
সম্প্রতি তার বসতভিটায় রোপণ করা মেহগনি, নিম, জাম, সুপারি গাছসহ সবজি ক্ষেত কেটে ফেলার ঘটনাটি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। কাটা গাছ হাতে নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী জানান,স্বাধীন দেশে আজ আমাকেই যদি ভিটেমাটি রক্ষার জন্য লড়তে হয়, তবে এটা আমার জন্য চরম দুঃখের। পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। ঘটনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, কারা এই হামলা ও উচ্ছেদের চেষ্টায় জড়িত সেটি নাম উল্লেখ করে বলা তার পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলেও আশঙ্কা ব্যক্ত করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাশের একটি ভিটেজমিতে ফসল কাটতে গেলে চাঁনপাড়া এলাকার ওহেদ আলী ও তার ছেলে সুজনকে হাতে নাতে আটক করেন প্রতিবেশী পুলিশ সদস্য ওলিয়ার মোল্লার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম এবং তার মেয়ে রিনা পারভিন। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সুজন, ওহেদ আলী ও সেজি খাতুন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে এ ঘটনায় রিনা পারভিন আদালতে মামলা করেন (মামলা নং—সি আর ২১/২০২৫), যেখানে মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলীকেও সাক্ষী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় হারুন নামে এক ব্যক্তি জানান, বিরোধটি অনেক দিনের। স্থানীয়ভাবে অনেক বার চেষ্টা করেও কোন সমাধান হয়নি। তবে ইউসুফ আলী ক্ষতিগ্রস্ত, এটা সত্য। যেহেতু মামলা আদালতে চলছে, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান আসবে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সুজনের মা সেজি খাতুন দাবি করেছেন, তাদের পরিবার নির্দোষ। তাদেরকে মিথ্যা মামলায় আটকে দেওয়া হচ্ছে এবং ইউসুফ আলীর গাছ কাটার ঘটনাটিও সাজানো এ অভিযোগও করেন তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।##

