পার্বতীপুরে ব্রিজ নির্মাণে গাফিলতি দূর্ভোগ জনগণের

মোঃ মমিনুল ইসলাম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে তিলাই নদীর ব্রিজ নির্মাণে নীচের বেরিকেট ভাংগা পিলারে মাটি ভরাট করে ফেনিসিং দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও পার্বতীপুরে ব্রিজ নির্মাণে গাফিলতি দুর্ভোগ জনগণের। গত (১৬ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার দৃশ্যটি দেখা গেছে। এটি উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ব দিকে তিলাই নদীর নির্মিত ব্রিজটির অবস্থান।

জানা যায়,, উপজেলার চন্ডিপুরের নির্মাণাধীন ব্রিজটি যুগের পর যুগ ধরে ব্রিজ নির্মাণে গাফিলতির কথা তুলে ধরেন এলাকাবাসী। তারা বলছে, ঠিকাদারের কারসাজিতেই দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণ কাজের অনিয়মের কথা অভিযোগ তুলেছে। নানা অনিয়মের অভিযোগে সেতুর কাজ এলাকাবাসী বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগের শিকার ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের মানুষের । পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ঝাড়ুয়ারডাঙ্গা ৩০ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুর ঠিকাদারি কাজ পায় যশোরের আইসিএল (পিভিটি)। স্থানীয় সরকার এলজিইডির সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএলের সঙ্গে সেতু নির্মাণের চুক্তি হয়। চন্ডিপুর ঝাড়ুয়াডাঙ্গা সেতুর ৩ কোটি ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৬৩ টাকার। কাজ শুর হয় ২০২২ সালের ৬ মার্চ। কাজটির সমাপ্ত হবার কথা ছিল ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর। অথচ এত দীর্ঘ দিনের ব্রিজটি নির্মাণে গাফিলতি কিসের জানতে চায় এলাকাবাসী ? এরপরও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার স্থানীয় সরকার এলজিইডির কাছে বারবার সময় বাড়িয়েও ঠিকাদার কাজ সমাপ্তি করতে পারেনি। এ বিষয়ে এলাকার রাসেল,সাজেদুর রহমান, মকছেদ আলী, মহুবার রহমান, হাফিজার রহমান, এমদাদুল হক,মিজমুল আমিনুর ইসলাম মজিবর রহমানসহ আরও অনেকে অভিযোগ করেন।

এই ব্রিজটির কাজ আর কতদিনে শেষ হবে। চার বছর পার হল তবুও কাজ শেষ হলো না। আরও কতদিনে শেষ হবে বলে প্রশ্ন তুলে। আমরা প্রতিনিয়ত অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করছি। কাজের ঠিকাদারকে আমরা কোনো দিন এলাকায় দেখেনি। শুনছি, ওনি নাকি আওয়ামী লীগের বড় নেতা। গত শনিবার সকালে এলাকার কাউকে না জানিয়ে বান্ধের দিন গাইড ওয়ালের মাটি ভরাট কাজ শুরু করে। এমনকি সেতুর দুই মুখে রোলার করে মাটি, বালু ফিলিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। দুই সাইডে ইটের ভাঙ্গারি ফেলে কোনো মতে দায়সারা কাজ করেছে। এ ব্যাপারে ঐ কাজের মিস্ত্রি হালিম জানায়,এখানে আর কাজ করা যাবে না। এমন এলাকা আমি কোথাও দেখিনি। কাজ করতে এখানে খুবেই অসুবিধা আমি বাড়ি চলে যাচ্ছি। উপজেলা সহকারী এসিল্যান্ড স্যার ও মাটি কাটতে নিষেধ করছে। আমি কী করবো শেষমেষ বাড়ি যাচ্ছি বলে জানায়। আর এক টিকাদারের ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার রাস্তার উপরের সমান্তরালের কাজ। আমাকে প্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহ করলে এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে জানায়। উক্ত কাজের মুল টিকাদার হাজ্বী রফিকুল ইসলাম কে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা প্রকোশলী মো. মানিক বলেন, ব্রিজটির কাজ সমাপ্ত করতে টিকাদার দীর্ঘ সময় নিয়েছে। তবে ওনাকে কাজটি শেষ করার জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এরমধ্যেই কাজটির সমাপ্ত হবে বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *