পিতা মাতাকে ভুয়া প্রতিবন্ধী বানিয়ে ভাতা তুলছেন কৃষক লীগের এক নেতা
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ক্ষমতা ও স্বজনপ্রীতির অপব্যবহার করে ভুয়া প্রতিবন্ধী কার্ড প্রদান ও সরকারি ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কৃষক লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী পলিয়ারার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ নিজের বাবা-মা-স্ত্রীকে প্রতিবন্ধী সাজিয়ে জাহাঙ্গীর আলম প্রতিবন্ধীর কার্ড করিয়েছেন।
পাশাপাশি আরো অন্তত ৩৫ জন সুস্থ-সবল ব্যক্তিকেও তিনি টাকার বিনিময়ে এই ভুয়া কার্ড সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম বাধাইড় ইউনিয়ন কৃষক লীগের একজন সক্রিয় নেতা এবং দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।
বাধাইড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম এবং একই ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য তার স্ত্রী পলিয়ারা এই অনিয়মের সাথে জড়িত বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে। ইউনিয়নের শিবরামপুর এলাকার বাসিন্দা সাদিউর রহমান সম্প্রতি তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ-সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগ অনুসারে, জাহাঙ্গীর আলম তার বাবা নুরুল ইসলাম, মা জাহানারা বেগম এবং স্ত্রী পলিয়ারাকে দৃষ্টি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাজিয়ে ভুয়া সনদ তৈরি করেছেন। অথচ তারা সবাই শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ। এ ছাড়াও অভিযোগপত্রে এই তিনজনের পাশাপাশি আরো ১৪ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং অজ্ঞাত হিসাবে রয়েছেন আরো ১০ থেকে ১৫ জন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সংবাদকর্মীদের সাথে সরাসরি কথা বলতে এড়িয়ে গেছেন। তিনি শুধু মোবাইল ফোনে বলেন, তার মা অসুস্থ থাকায় এখন কথা বলার সময় নেই। অন্য দিকে তার স্ত্রী পলিয়ারার ফোন বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মাদ হোসেন খান জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে সত্যতাও মিলেছে। ইতোমধ্যে এই সাতজনের ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং তাদের নোটিশ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সমাজসেবা অফিসকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইউপি সদস্য দম্পতির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

