মোংলা বন্দরে বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে, বদলে যেতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সুন্দরবন থেকে ফিরে :দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল মৎস্যভান্ডার নামে খ্যাতবিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলের দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলাকে ঘিরে তৈরী হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন প্ল্যাটফরম। চীন ও ভারতের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা মোংলা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে কাছের সমুদ্র বন্দর হওয়ায় মোংলা বন্দরের গুরুত্ব বেড়েই চলছে। ভবিষ্যতে চট্রগ্রাম বন্দরের বিকল্প হবে মোংলা বন্দর।

স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ও বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, ইউরোপের দেশসমূহের বিনিয়োগকারী এবং আমদানি রপ্তানিকারকরা বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে ঘিরে তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনার কার্যক্রম শুরু করতে পারলে এ বন্দর আরো আকর্ষনীয় ও কর্মমূখর হয়ে উঠবে। কর্মসংস্থান বাড়বে। দেশের অর্থনীতি আরো সমৃদ্ধ হবে।

এদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে মোংলা বন্দর ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এ বন্দরকে বিদেশি বিনিয়োগমুখী করতে সরকারের পক্ষ থেকে আরো কয়েকটি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মোংলা বন্দরকে আরো আধুনিক ও ব্যবহার উপযোগী বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সহ সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে বলে মনে করেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

বন্দরে প্রায় ৫০০ একর খাস জমি রয়েছে যেখানে বিদেশিরা চাইলে জমি বরাদ্দ নিয়ে পরিবেশবান্ধব শিল্প কারখানা করতে পারবে। এতে বন্দরের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। মোংলা ইপিজেডে চীন ভারত ও অন্যান্য দেশের একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ইপিজেডের পরিধি আরো বাড়ানো হচ্ছে। এখন যদি ইউরোপীয় বিনিয়োগ এখানে আসে তাহলে তো পাল্টে যাবে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি।

জানতে চাইলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, মোংলা বন্দর একটি আন্তর্জাতিক উন্নত বন্দরের আদলে সকল কমপ্লায়েন্স অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় আমরা বন্দরের আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছি। বন্দর যত উন্নত হচ্ছে ততই রাজস্ব আয় বাড়ছে। বলতে গেলে সবদিক থেকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বন্দরে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, ইউরোপীয়রা আমাদের বন্দরে বিনিয়োগ করলে আমরা তাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে পারবো। বিদেশিদের জন্য মোংলা বন্দর হবে একটি লাভজনক হাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *