খুলনা নগরীতে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ গ্রেফতার ৪

সেখ রাসেল, ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনা সদর থানাধীন টুটপাড়া এলাকা হতে একটি জলদস্যু বাহিনী’র প্রধান বুলবুলসহ ৪ জন ৫ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, গান পাউডার ও ধাঁরালো অস্ত্র ও মাদক দ্রব্যসহ গ্রেফতার হয়েছে। শনিবার ভোর রাত দেড়টা থেকে ভোর সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত সেনা বাহিনী ও পলিশের যৌথ অভিযানে এ উদ্ধার-গ্রেফতার হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত অভিযানে দু’ রাউন্ড গুলিসহ একটি নাইন এমএম পিস্তল, ৪ রাউণ্ড বন্দুকের গুলিসহ ১ ওয়ান শ্যুটার গান, ১ দেশি তৈরি পিস্তল, ৩ রামদা, ২ চাইনিজ কুড়াল, ৩ চাপাতি ও ১শ’ ৫পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৬ মোবাইল ও ৩ পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে বাহিনী প্রধান বুলবুল গ্রেফতার হয়েছে বলে কেএমপি’র ১ কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা গেছে। যদিও থানা পুলিশ এ ব্যাপারে তাৎক্ষনিকভাবে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
আসামিরা হচ্ছে, শিপইয়ার্ড এলাকার বাবুল মোল্লার ছেলে মোঃ সালাউদ্দিন মোল্লা বুলবুল (৪৪), মৃত: শেখ হাবিবুর রহমানের ছেলে শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান (৪৫), তার ছেলে শেখ মোহাম্মদ তাসফিকুর রহমান (১৯) এবং সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার ভোলানাথপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম মোল্লার ছেলে মোঃ আরিফ হোসেন (৩১)। গ্রেফতারের পর তাদেরকে খুলনা আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে খুলনা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে। খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বলেন, আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, কেএমপি’র এক প্রেস রিলিজ থেকে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া অবৈধ অস্ত্র দ্বারা সাম্প্রতিক সময়ে আসামিরা কোনো অপরাধ সংঘটিত করেছে কিনা, অস্ত্রগুলা কোথাও ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কিনা? আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির উৎস কি এবং অস্ত্র কারবারের সাথে কারা জড়িত? এসব প্রশ্নের উত্তর জেনে সন্ত্রাসী বাহিনীটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং আরো অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। প্রাথমিকভাবে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে খুলনা সদর থানায় সন্ত্রাসী বুলবুলের বিরুদ্ধে ৩টি এবং তৌহিদুরের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে আরো মামলা আছে কিনা, পুলিশ কর্মকর্তারা সে ব্যাপারে খোাঁজ নিচ্ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *