“শ্রী শ্রী শারদীয় দূর্গা পূজা” উপলক্ষ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
আসন্ন শ্রী শ্রী শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টায় বটিয়াঘাটা উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান।
সভায় সভায় মূখ্য উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের পক্ষে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খন্দকার ফারুক হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমডি খায়রুল ইসলাম জনি, বটিয়াঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মারুফ হোসেন, হরিণটানা থানার এসআই মিশন, লবণচরা থানার এসআই রাসেল, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু বক্কর মোল্লা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম মিয়া, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের খুলনা জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সুদীপ্ত মল্লিক, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রামপ্রসাদ রায়সহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এছাড়া বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন মুন্সী, যুগ্ম সম্পাদক সেখ রাসেল, বাংলাদেশ মানবাধিকার সংরক্ষণ কমিশন বটিয়াঘাটা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ সরদার, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিত টিকাদার, সাংবাদিক ইমরান হোসেন, বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টরা সভায় অংশ নেন।
১০৮ মন্দিরে দুর্গাপূজা : সভায় জানানো হয়, বটিয়াঘাটা উপজেলায় সাতটি ইউনিয়নে মোট ১০৮টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে—১ নং জলমা ইউনিয়ন: ৩২টি, ২ নং বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন: ২৬টি, ৩ নং গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন: ২১টি, ৪ নং সুরখালী ইউনিয়ন: ১৪টি, ৫ নং ভান্ডারকোট ইউনিয়ন: ৫টি, ৬ নং বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন: ২টি, ৭ নং আমিরপুর ইউনিয়ন: ৭টি।
সভায় জানানো হয়, প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ ও স্পটে ৮ জন করে এবং সাধারণ পূজামণ্ডপে ৬ জন করে আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
পূজার ষষ্ঠী থেকেই সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন বলে সভায় জানানো হয়।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২০২৬ সালের নির্দেশনাতেও পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা, জেলা কমান্ড্যান্ট এবং প্রয়োজন হলে সদর দপ্তরের কন্ট্রোলরুমকে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিসিটিভি ও বিকল্প বিদ্যুৎ বাধ্যতামূলক : সভায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় নিরাপত্তা ও পূজার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্র নয়, ডিজে গানেও নিষেধাজ্ঞা : সভায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত আজান ও নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্র বাজানো থেকে বিরত থাকার জন্য পূজা উদযাপন কমিটির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপ বা আশপাশের এলাকায় ডিজে গান ও অতিরিক্ত শব্দদূষণ সৃষ্টি হয়—এমন কোনো আয়োজন না করার আহ্বান জানানো হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইবাদতের পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখানো সবার দায়িত্ব।
সরকারি নির্দেশনায় পূজামণ্ডপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করণীয়:
১. সিসিটিভি ক্যামেরা, ২. বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ৩. পর্যাপ্ত আলোর নিজস্ব ব্যবস্থা, ৪. নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল, ৫. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা, ৬. জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ, ৭. ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, ৮. শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত উচ্চ শব্দে গান, ডিজে বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে আজান ও নামাজের সময় সম্পূর্ণভাবে শব্দ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ৯. মাদক ও উচ্ছৃঙ্খলতা নিষিদ্ধ, ১০. যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা, ১১. গুজবে কান নয়, ১২. মণ্ডপে সার্বক্ষণিক নজরদারি।
সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির মাধ্যমে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়।

