অবিলম্বে খুলনার বন্ধকৃত মিল কলকারখানা চালু ও শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবি, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন
সেখ রাসেল, ব্যুরো চিফ, খুলনা:
বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা জেলা শাখা। দাবি পূরণ না হলে শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় খুলনার খালিশপুরে শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা জেলা আয়োজিত ইউনিট সভাপতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, শ্রমিকদের পক্ষে কেউ আন্তরিকতা দিয়ে কখনো কথা বলেনি এবং তাদের সমস্যার সমাধানেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সরকার ও পুঁজিপতি শিল্পপতিরা সব সময় শ্রমিকদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “সময় এসেছে, আমরা যারা আল্লাহকে ভয় করে জান্নাত পাওয়ার আশায় জীবন বিলিয়ে দিয়েছি, তাদের শ্রমিকদের পক্ষে দাঁড়িয়ে এদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। নির্যাতিত ও নিপীড়িত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, একসময় খুলনার খালিশপুর, দৌলতপুর, আফিলগেট, আলিম স্টান, যশোরের নওয়াপাড়া ও রাজঘাটসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল শ্রমিকদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। বর্তমানে এসব এলাকার অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিল্পাঞ্চলগুলো অনেকটাই জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বন্ধ কলকারখানাগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করতে হবে এবং শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিক জনতাকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইমরান হোসাইন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক নেতা খান গোলাম রসূল, মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, অধ্যাপক আলফিদা হোসেন ও মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফরাজি।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা শেখ কামাল হোসেন, আলী আকবার মোড়ল, শেখ আবুল কালাম আজাদ, জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আল আমিন গোলদার, মুজাহিদুল ইসলাম, কে এম রায়হানুল হক, মাওলানা নুরুন্নবী সিদ্দিকী, মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন শিহাব, মাওলানা সাইফুল্লাহ মুনসুর, ডাক্তার মাহফুজুর রহমান, মো. আব্দুল আলিম শেখ, হাফেজ আব্দুস সাত্তার, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ ফিরোজ শেখ, মোহাম্মদ মাহমুদুল আলমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

