দীনেশচন্দ্র সেন স্মৃতি স্বর্ণপদক–২০২৬ অর্জন কবি বিপ্লব রায়কে বটিয়াঘাটায় সংবর্ধনা
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
সাহিত্যচর্চায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন স্মৃতি স্বর্ণপদক–২০২৬ অর্জন করেছেন বিশিষ্ট কবি বিপ্লব রায়। তাঁর এ গৌরবময় অর্জনকে কেন্দ্র করে বটিয়াঘাটায় আয়োজন করা হয় আন্তরিক সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বটিয়াঘাটা উপজেলা অডিটোরিয়ামে ‘সুধীজন বটিয়াঘাটা, খুলনা’-এর আয়োজনে এ সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন মণ্ডল। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সুধীজন বটিয়াঘাটার পক্ষ থেকে সংবর্ধিত কবি বিপ্লব রায়কে ফুল ও ফল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
আলোচনা সভায় অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আবুল ফজল, অধ্যাপক সুরঞ্জন রায়, অধ্যাপক বিভূতিভূষণ মণ্ডল, সাবেক চেয়ারম্যান শিবপদ মণ্ডল ও সাহিত্যিক কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল। স্বাগত বক্তব্য দেন সাবেক ব্যাংকার স্বপন বিশ্বাস। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন রায়, দীপ্তি রায়, প্রভাস চন্দ্র রায়, সাবেক অধ্যক্ষ অমিতেষ দাশ, অধ্যাপক সদানন্দ রায় ও সুদেব চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে কবি বিপ্লব রায়ের জীবন, সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল কর্মের ওপর রচিত পরিচিতি পাঠ করেন মাসুমবিল্লাহ। বক্তারা বলেন, কবি বিপ্লব রায়ের দীর্ঘদিনের সাহিত্যসাধনা, সৃজনশীলতা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদান নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তাঁর অর্জিত এই স্বীকৃতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং বটিয়াঘাটার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্যও একটি গর্বের বিষয়। এ ধরনের সম্মাননা নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী ও উৎসাহিত করবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তারা আরও বলেন, মেধা, সৃজনশীলতা ও নিরলস সাধনার মাধ্যমে একজন মানুষ যে জাতীয় পর্যায়ে সম্মান অর্জন করতে পারেন, কবি বিপ্লব রায়ের এই অর্জন তারই অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত। তাঁর সাফল্য আগামী প্রজন্মের সাহিত্যপ্রেমীদের পথ দেখাবে।
সংবর্ধনার জবাবে কবি বিপ্লব রায় উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ সম্মান তাঁর সাহিত্যসাধনাকে আরও বেগবান করবে। ভবিষ্যতেও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি মানবকল্যাণ ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় সুধীজনের উপস্থিতিতে এক প্রাণবন্ত ও আন্তরিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান শেষে কবি বিপ্লব রায়ের হাতে সংবর্ধনা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেওয়া হয়। তাঁর এই অর্জনকে ঘিরে উপস্থিত সুধীজনেরা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

