ঝিনাইদহের উত্তর নারায়ণ পুর স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে মসজিদের ৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা –
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা এলাকার উত্তর নারায়ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মসজিদের প্রায় ৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৯০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডাকবাংলা বাজারের শতবর্ষী মসজিদ ‘মাগুরাপাড়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদ’-এর ম্যানেজিং কমিটির ক্যাশিয়ার হিসেবে ২০১২ সালে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষক আলমগীর হোসেন। ওই সময় মসজিদের তহবিলের ১১ লাখ ১৭ হাজার ৬৮০ টাকা তার কাছে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে মসজিদ কমিটির কাছে বিষয়টি জানাজানি হলে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কয়েক দফায় তিনি প্রথমে ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং পরে আরও কিছু টাকা পরিশোধ করেন বলে মসজিদ কমিটির সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে বাকি ৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৯০ টাকা এখনও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
মসজিদ কমিটি সূত্রে আরও জানা যায়, বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য আলমগীর হোসেনকে একাধিকবার মৌখিকভাবে তাগাদা দেওয়া হয়। এমনকি ২০২৩ সালে কয়েক দফা জরুরি নোটিশ দিয়ে টাকা পরিশোধের জন্য বলা হলে তিনি লিখিতভাবে সময় নেন। এরপর প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ওই টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ মসজিদ কমিটির।
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির বিদায়ী সেক্রেটারি ওলিয়ার রহমান বলেন,আমি দায়িত্বে থাকাকালীন মসজিদের বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য আলমগীর হোসেনকে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি টাকা পরিশোধের বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
বর্তমান সেক্রেটারি হাজী শামসুল ইসলাম বলেন, আলম মাস্টারের কাছে মসজিদ কমিটির কত টাকা পাওনা রয়েছে, তার হিসাব বর্তমানে আমার কাছে নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মুসল্লির অভিযোগ, মসজিদ কমিটির সভাপতি বারী মণ্ডল অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখাচ্ছেন। তার দাবি, টাকা আদায়ের পরিবর্তে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান কামাল অভিযুক্ত শিক্ষক আলমগীর হোসেনের আপন ভাই হওয়ায় টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন ওই মুসল্লি।
তবে বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান কামাল দাবি করেন, মসজিদের সকল টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে মসজিদ কমিটির সভাপতি বারী মণ্ডল অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের কাছে মসজিদের কিছু টাকা পাওনা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন,কাগজপত্রে একটু সমস্যা ছিল। মসজিদের টাকা সব পরিশোধ করা হয়েছে।
তবে মসজিদ কমিটির একাধিক সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, বকেয়া টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। এ ঘটনায় মসজিদের তহবিলের হিসাব-নিকাশ স্বচ্ছভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।##

