চাঁদপুরে টেলিকম সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ১৮ বছরের স্বপ্ন ছাই, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৮ লাখ টাকা
মোঃ জাবেদ হোসেনঃ চাঁদপুর সদর উপজেলার ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কাজীর বাজার এলাকায় অবস্থিত ইস্কাই লিংক টেলিকম সেন্টার-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোকানটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) সকাল আনুমানিক ৯টায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে দোকানের ভেতরে থাকা ইন্টারনেট সেবার মূল্যবান যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, রাউটার, সুইচ, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অন্যান্য মালামাল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এতে আনুমানিক ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দোকানের মালিক।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতায় অল্প সময়ের মধ্যেই দোকানের ভেতরের সবকিছু পুড়ে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দোকানের ভেতরে থাকা অধিকাংশ মালামাল আর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, দোকানের কাঠের কাউন্টার, চেয়ার-টেবিল, বৈদ্যুতিক তার, ইন্টারনেট সংযোগের বিভিন্ন সরঞ্জাম, নথিপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে আগুনে পুড়ে কালো হয়ে গেছে। দেয়ালজুড়ে ধোঁয়ার কালো দাগ এবং পোড়া গন্ধে পুরো দোকানটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে দোকানের মালিক আব্দুল খালেক (সোহাগ) প্রধানিয়া ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন,
“অনেকে বলছেন শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। কিন্তু আমার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় প্রায় ১৫ দিন আগে বিদ্যুতের মিটার ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যুৎ সংযোগই যদি না থাকে, তাহলে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগল কীভাবে? বিষয়টি আমার কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। আমি সন্দেহ করছি, পরিকল্পিতভাবে কেউ এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। আমার ১৮ বছরের পরিশ্রম, কষ্ট আর স্বপ্ন এক মুহূর্তে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আগুনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা প্রস্তুতি চলছে।

