বটিয়াঘাটায় এসিল্যান্ডের উদ্যোগে সরকারি খাল উন্মুক্তের কাজ চলমান, স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাশে এলাকাবাসী

সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খাল দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতের উদ্যোগকে সাধুবাদ, স্থায়ী সমাধানে সীমানা পিলার ও ব্রিজ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাল উন্মুক্ত ও দখলমুক্ত করতে মাঠে নেমেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েভ-শাত-ঈল-ইভান। তাঁর নেতৃত্বে চলমান এ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইতোমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে।

খাল থেকে অবৈধ দখল অপসারণের ফলে দীর্ঘদিনের বাধাগ্রস্ত পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ সফল করতে স্থানীয় বাসিন্দারাও নিজ উদ্যোগে খালের দুই পাড়ে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করছেন, যাতে মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে। অনেকেই শ্রম ও উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এরই ধারাবাহিতকতায় বটিয়াঘাটা ১ নং জলমা ইউনিয়নের নিজ খামার খালে চলছে অভিযান। পশ্চিম ও ভিতরের অংশে খেয়াল রাখার অনুরোধ এলাকাবাসীর।

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খালগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে। তবে এ কার্যক্রমের স্থায়ী সুফল নিশ্চিত করতে দ্রুত জরিপ ও সরকারি ম্যাপ অনুযায়ী খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে সীমানা পিলার স্থাপন করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কেউ পুনরায় খাল ভরাট বা দখল করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসী আরও বলেন, খালের ওপর চলাচলের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় স্থানে কাঠের ব্রিজ, বেলি ব্রিজ অথবা স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে পথচারীদের পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালকরাও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন পানিপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে, অন্যদিকে মানুষের ভোগান্তিও কমবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, খাল সংরক্ষণে গ্রাম পুলিশ, ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি থাকলে সরকারি খাল পুনরায় দখল বা ভরাটের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, “খাল বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে, কৃষি বাঁচবে এবং জলাবদ্ধতাও কমবে। তাই খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *