মতলব উত্তরের ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন: নিজ মাকে হত্যার অভিযোগে পুত্র গ্রেফতার
মোঃ জাবেদ হোসেনঃচাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা নারীর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত নারীর ছেলে মো. জনি (২৬)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজ মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) চাঁদপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন ৯৯৯-এ প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে মতলব উত্তর থানার কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর গলিত ও বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের মাথার খুলি থেকে চুল ও চামড়া খসে পড়া এবং বাম হাত-পা বন্য প্রাণীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় প্রথমদিকে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। টিমে এসআই সাদেকুর রহমান, এসআই মিজানুর রহমান-৩, এসআই রেজাউল করিম এবং এএসআই মো. রবিউল ইসলাম অংশ নেন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্তের এক পর্যায়ে মো. জনির ওপর সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানান বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জনি জানায় তার মা মজিদা বেগম তিনটি বিয়ে করেছিলেন। শৈশবে বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামাবাড়িতে নানা অবহেলা ও নির্যাতনের মধ্যে বেড়ে ওঠায় তার মনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই ক্ষোভ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে গত ১৭ জুন তিনি তার মাকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশায় করে কলাকান্দার একটি কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে চলে যান। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন একটি দূরবর্তী ডোবায় ফেলে দেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে নিয়ে পরিচালিত অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং ডোবায় ফেলে দেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

