কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিককে আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় পিবিআই কুষ্টিয়া কর্তৃক মানব পাচার চক্রের মূল আসামি গ্রেফতার
মশিউর রহমান ঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বাসিন্দা মোঃ রাজু আহমেদকে (২৯) প্রতারণার মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় পাচার করে মোট ৬,৯০,৩৩০/- টাকা আদায় এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় পিবিআই কুষ্টিয়া জেলা তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে এজাহারনামীয় ১নং আসামিসহ মোট ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ভিকটিম পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ ফিরোজ হোসেন বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানাধীন খলিসাকুন্ডি গ্রামের বাসিন্দা ভিকটিম মোঃ রাজু আহমেদকে ঝিনাইদহের শৈলকুপার আসামি মোঃ ফিরোজ হোসেন এবং মোঃ সুমন হোসেন @ কামাল বিদেশে ভালো কাজের প্রলোভন দিয়ে ৪,৫০,০০০/- টাকা হাতিয়ে নেন এবং পরিকল্পিতভাবে কম্বোডিয়ায় পাচার করেন। কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর ভিকটিমকে আটক রেখে ইলেকট্রিক শক, চড়, কিল ও ঘুষি দিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে ৫,০০০ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ভিকটিমের পরিবারের নিকট থেকে ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি, কুষ্টিয়া শাখার অ্যাকাউন্ট, ডাচ-বাংলা ব্যাংক রকেট অ্যাকাউন্ট এবং ইস্যুকৃত ডুয়েল কারেন্সি মাল্টি ন্যাশনাল ভিসা কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মুক্তিপণ বাবদ ২,৪০,৩৩০/- টাকাসহ সর্বমোট ৬,৯০,৩৩০/- টাকা আদায় করে।
ভিকটিম ০৯/০২/২০২৬ তারিখে আসামিদের কবল থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে দৌলতপুর থানায় এজাহার দায়ের করেন। এজাহারের ভিত্তিতে দৌলতপুর থানার মামলা নং-৩২, তারিখ ১১/০৫/২০২৬, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ ২০২৬-এর ৬(২), ৭, ১০(২), ২২ এবং পেনাল কোডের ৩২৩ ধারায় মামলা রুজু হয়। মামলাটি পিবিআই-এর সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই কুষ্টিয়া জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে।
এসআই (নিঃ) মোঃ মাহাবুর রহমান মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। তদন্তকালে গত ১৭/০৫/২০২৬ তারিখে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান কুষ্টিয়া জেলার কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত মামলার এজাহারনামীয় গুরুত্বপূর্ণ ১নং আসামি মোঃ ফিরোজ হোসেন (৪৪), পিতা: সাহেব আলী, মাতা: জামেলা খাতুন, সাং-দুর্বাচারা, থানা-শৈলকুপা, জেলা-ঝিনাইদহ কে গ্রেফতার করা হয়।
আসামি মোঃ ফিরোজ হোসেন জানান, তিনি ও অপর আসামি মোঃ সুমন হোসেন @ কামাল পরস্পর পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে বিদেশে ভালো কাজের সুযোগ দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে অর্থ আদায় করেন এবং কম্বোডিয়ায় পাচার করেন। সেখানে আসামি সুমন ও স্থানীয় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ভিকটিমকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করেন। পরবর্তীতে ১৮/০৫/২০২৬ তারিখে গ্রেফতারকৃত আসামি বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পিবিআই-এর অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

