পিরোজপুর পৌরসভার পানি সরবরাহে বেহাল অবস্থা: পানি সংকটে বিপর্যস্ত পৌরবাসী

মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, পিরোজপুরঃ
পিরোজপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। পুরনো পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল এই ব্যবস্থার কারণে শুকনো মৌসুমসহ সারা বছরই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পৌরবাসী। বর্তমানে শহরজুড়ে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে হাহাকার।
৩৫০০ সংযোগের জন্য সক্ষম পানি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০০০ সংযোগে পানি সরবরাহের চেষ্টা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফলে নাগরিকদের কাছে পৌরসভা একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
এই সংকট নিরসনে সম্প্রতি একদল নাগরিক পৌর ভবন ঘেরাও করে অবস্থান নেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নাগরিকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দ্রুত পানি সমস্যার সমাধানের দাবি জানান স্থানীয়রা।৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. শাহজাহান হাওলাদার জানান, তার ওয়ার্ডে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বাস হলেও তিন দিনেও একবার পানি পাওয়া যায় না।
৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এ কে এম সাইফুল্লাহ বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাস করেও দিনে একবার অল্প সময়ের জন্য অনিয়মিত পানি পান।
মাতৃসদন সড়কের বাসিন্দা বশির আহমেদ খান জানান, তিন দিনেও লাইনে পানি আসে না, তাই গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “পজেটিভ পিরোজপুর”-এর সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পৌরসভার প্রধান আয়ের উৎস পানি খাতের কর হলেও এই খাতে উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ অবহেলিত।
রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা কাজী আব্দুর রউফ ও আমলাপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী সালাম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও ন্যূনতম সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। পানির অভাবে দৈনন্দিন জীবনযাপন, এমনকি গোসল ও বাথরুম ব্যবহারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ, বলেশ্বর নদে পানির স্বল্পতা, পুকুর ভরাট, এবং পুরনো ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ব্যয়বহুল রক্ষণাবেক্ষণ—এসব কারণে প্রকল্পটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। বর্তমানে পৌর এলাকার মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ এই সুবিধা পাচ্ছেন।
পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আংশিকভাবে পানি সরবরাহ করা হয়। ২, ৬ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশ সুবিধা পেলেও ১, ৩ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড পুরোপুরি বঞ্চিত পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ১৬ একর জমির ওপর এই পানি সরবরাহ প্রকল্প স্থাপন করে, যা ১৯৯৯ সালে পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা ও আর্সেনিক থাকায় নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহ করা হয়। দুইটি ওভারহেড ট্যাংকে সংরক্ষণ করে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি বিতরণ করা হয়, প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৬ লাখ ৮০ হাজার লিটার।বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘণ্টা ছয়টি মোটর পাম্প চালিয়ে সীমিত পরিসরে পানি সরবরাহ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *