গণভোটের রায় মেনে নিন, না হলে সরকার পারপাবেনা, করুণ পরিণতি হবে
দপ্তর সম্পাদক:
জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বর্তমান সরকার পার পাবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সংসদের বর্তমান অবস্থাকে ‘জুলাই প্রোডাক্ট’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, আমি সংসদেও বলেছি যে, জুলাই নাই আমরাও নাই। জুলাই আছে আমরা আছি, জুলাই আছে সরকার আছে, জুলাই আছে বিরোধী দল আছে, জুলাই নাই কিছুই নাই। এই জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না ইনশাআল্লাহ। গণভোটের গণরায়ের মাধ্যমে এই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। এর জন্য আবার জীবন দিতে হলে দেব, ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জনগণের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন। পাঁচ কোটি মানুষের গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে দেশে নতুন সংকট তৈরি করবেন না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন, তা না হলে যারা অতীতে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ বেছে নিয়েছিল, তাদের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতা ও চিফ হুইপসহ সকল সংসদ সদস্যদের কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি অনেকটা বাকশালি কায়দায় দমনের চেষ্টা। আপনারা সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন, কিন্তু মনে রাখবেন সংবিধান শুধু আপনারা একাই পড়েন না, আমরাও বুঝি।
আইনমন্ত্রী ও চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে গোলাম পরওয়ার বলেন, আপনারা যদি গণভোটের পক্ষে ভোট দিয়ে থাকেন, তবে এখন কেন তাকে অবৈধ বলছেন? নিজের দেওয়া ভোট অস্বীকার করা মানে নিজের আত্মপরিচয়কে ইগনোর করা। সত্য স্বীকার করুন এবং সংস্কার পরিষদের বৈধতাকে মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করুন।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় মাসেই আপনারা ব্যাংক থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা লোন নিয়েছেন। রেমিট্যান্স কমছে, দ্রব্যমূল্য বাড়ছে এবং দেশে জ্বালানি সংকট প্রকট হচ্ছে। এই সংকট সমাধানের পরিবর্তে আপনারা ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ঝুঁকছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য জাতীয় নেতৃবৃন্দ।
আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক, মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করলে গণভোটকে বিনা বাক্যব্যয়ে এবং বিনা তর্কে মেনে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেছেন, এটাই জনগণের অভিপ্রায়। জনগণ ৭০ শতাংশ ভোট দিয়ে সেই অভিপ্রায় আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন।
যারা জীবন দিয়ে বিপ্লব করেছেন, তাদের একটি দাবি ছিল- রাষ্ট্র মেরামত করতে হবে। এটা যেন আমরা ভুলে না যাই। রাষ্ট্র মেরামত করতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে সংস্কার করতে হবে। সেই সংস্কার সরকার পরিচালনা এবং সাংবিধানিকভাবে করতে হবে। কাজেই সেই সংস্কার নিয়ে আমরা কোনো তর্ক তুলতে পারব না।
তিনি বলেন, আমাদের ঘাড়ের ওপর ১৬ বছর যে ফ্যাসিবাদ চেপে বসেছিল, তার দুটো চরিত্র ছিল। একটি ফ্যাস্টিট ও আরেকটি ছিল- এক ধরনের রাজতন্ত্র চাপিয়ে দেয়া। শেখ হাসিনা তার পিতা শেখ মুজিবকে দেবতা হিসেবে আমাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিল, সেই দেবতার মাধ্যমে একটা অলিখিত রাজতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা করেছিল। তার বিরুদ্ধেই আমাদের নাহিদ, সারজিসরা বিপ্লব করেছিল। তাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান ছিল, একটি হলো-গোলামী না আজাদী, আরেকটি হলো-দেশটা কারও বাপের না। এর অর্থই হচ্ছে, এদেশের মালিক জনগণ এবং জনগণের ইচ্ছাতেই এই দেশ পরিচালিত হবে। আর জনগণের ইচ্ছায় দেশ পরিচালিত হতে হলে গণভোটের রায় আমাদের সবাইকে মেনে নিতে হবে।

