সংসদে নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে দাবি বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াত ইলামের আমির ড. শফিকুর রহমান

সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াত-ই-ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে দাবি করেছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে তিনি এ দাবি করেন।
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার শুরুতে নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে দাবি করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরবিক্রম। আমিও ক্ষুদ্র একটি শহীদ পরিবারের সন্তান। সেই মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা জীবন দিয়েছিলেন, আমাদের পরিবার কয়েক ফোঁটা রক্ত দিয়ে তাঁদের সঙ্গে শরিক হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার আজ ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক সরকারই গঠিত হয়েছে এবং পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের বিপুল প্রত্যাশার জায়গায় দাঁড়িয়ে আজকে আমরা সবাই বলে থাকি, স্বাধীনতার পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আমাদের। সবাই পর্যায়ক্রমে কেউ না কেউ এই দেশের শাসনভার পরিচালনা করবেন এটাই স্বাভাবিক। জামায়াত আমির বলেন, ২০০৯ সালে যারা সরকার গঠন করেছিলেন ২০০৮ সালের একটা বোঝাপোড়ার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা দেশে কী করেছেন তার জ্বলন্ত সাক্ষী আজকের এই সংসদ। আমি সেদিনও বলেছিলাম, আমার ধারণা, ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে নির্যাতনের শিকার হননি- এমন বোধহয় কোনো সদস্য এখানে নেই। কেউ হয়েছেন বারবার, কেউ হয়েছেন হয়তো একবার, যারা সৌভাগ্যবান। অনেকে দেশেই থাকতে পারেননি। নির্যাতনের ভয়াবহতা এতটাই ভারী ছিল যে তারা নিজ জন্মস্থানের মাটি আঁকড়ে ধরে থাকতে। এদিকে ডা. শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে যে গণভোট হয়েছে তার প্রতি সম্মান দেখাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অনেক কিছু, আইনের অনেক ব্যত্যয় ঘটিয়ে আমরা এই জায়গায় এসেছি। গতকাল রাতে জাতীয় সংসদে অধিবেশনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, খেয়াল রাখতে হবে, কোনো বিপ্লব কোনো সংবিধানের আওতায় হয় না, জনগণের ইচ্ছা, জনগণের আকাঙ্ক্ষায় হয়। সংবিধানের অনেক কিছু ছাড়াই এ পর্যন্ত আমরা এসেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *