পিরোজপুরে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও শহীদ লেঃ কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের স্মৃতি সংরক্ষণে নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ

মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার, পিরোজপুরঃ
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বীর শহীদ, পিরোজপুরের কৃতি সন্তান শহীদ লেঃ কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন (১৯৩২–১৯৭১)-এর স্মৃতি সংরক্ষণে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
১৯৩২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পিরোজপুর জেলার ধূপপাশা ডুমুরতলা গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৫০ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দিয়ে ইংল্যান্ড থেকে মেকানিক্যাল ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি পিএনএস বাবর যুদ্ধজাহাজের প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।পাকিস্তান নৌবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় বাঙালি ও অবাঙালিদের মধ্যে বৈষম্য দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং বাঙালি কর্মকর্তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার হন। এর ফলেই তিনি পাকিস্তানি শাসকদের বিরাগভাজন হয়ে ১৯৬৭ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ২ নম্বর আসামি হিসেবে গ্রেফতার হন। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের মুখে মুক্তি পান তিনি।পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ‘লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেন এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চালু করলে তিনি তাদের অন্যতম টার্গেটে পরিণত হন। ২৬ মার্চ ভোরে ঢাকার ৩৬, এলিফ্যান্ট রোডের বাসভবনে হামলা চালিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে দৃঢ়কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ স্বাধীন চাই”। পরে তার মরদেহও নিয়ে যায় পাকিস্তানি সেনারা, যা আর কখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।এদিকে, সরকারি উদ্যোগে তার পৈতৃক বাড়িতে একটি স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি। এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।শহীদের পরিবারের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তার বাড়িতে স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করে তার অবদান সংরক্ষণ করা হোক। একইসঙ্গে এলাকাবাসীর দাবি, পিরোজপুরে দৃশ্যমান কোনো স্থাপনা—বিশেষ করে সদ্য নির্মিত বেকুটিয়া সেতুর নাম শহীদ লেঃ কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের নামে নামকরণ করা হোক।
স্বাধীনতার এত বছর পরও এমন একজন বীর সন্তানের স্মৃতি সংরক্ষণে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *