রামগঞ্জ উপজেলার কাটাখালি বিলের ধানী জমি ভরাট করে ব্রীক ফিল্ড নির্মান

Ramgonj Katakhali Photo 4--4--2015MMMমোঃ কাউছার হোসেন, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) থেকে : শেষ পর্যন্ত রামগঞ্জ উপজেলার একমাত্র প্রাকৃতিক নৈসর্গ ও হাজার হাজার মন ধান উৎপাদন কেন্দ্র কাটাখালি বিলে নজর পড়েছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্রিক ফিল্ড মালিকের। ইতোমধ্যে তিনি প্রশাসনের লোকজনকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে সদ্য ধান বের হওয়া জমিগুলোর উপর ইট, বালু, সুরকী দিয়ে ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বেশ কিছু জমির মালিক তাদের জমি না দেয়ার কারনে উক্ত ইটভাটা মালিকের লোকজন প্রকাশ্যে ও গোপনে হুমকি ধমকি দিয়ে তাদেরকে চুপ থাকতে বাধ্য করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ উপজেলার ১নম্বর কাঞ্চনপুর ও ২ নম্বর নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কাটাখালী বিলে বিগত কয়েক দশক থেকে এলাকাবাসী ধান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এছাড়াও দুই ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কটি তৈরি হওয়ার কারনেও এলাকাবাসী সে সময় অনেক জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তারপরও স্থানীয় কৃষকরা বাকী জমিগুলোতে ধান চাষসহ মৌসুমি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
এছাড়াও রামগঞ্জ উপজেলাবাসীর এক মাত্র বিনোদন কেন্দ্র বলে পরিচিত এ কাটাখালি বিল। বর্ষাকালে থৈ থৈ পানিতে ফোটে শাপলা ফুল। শীতকালে দেখা যায়, সাদা সাদা বকের সারি। শরৎকালে চারদিকে ধান চাষ আর অনাবিল বাতাসে ঘুরতে আসেন পার্শ্ববর্তী হাজীগঞ্জ উপজেলাসহ রামগঞ্জ উপজেলার লোকজন। প্রতিদিন বিকেলে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে আসেন অনেকেই।
আজাদ রহমান, জাহিদ হাসান পাভেল, সমীর রঞ্জন সাহা, আমিনুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, কাউছার হোসেন, আবির, এনায়েত হোসেনসহ বেশ কয়েকজন জানান, এ বিলের কাছে আসলে মনটাই ভালো হয়ে যায়। উপজেলার প্রায় প্রত্যেকটা বিলেই রয়েছে ইটভাটা। একমাত্র এই বিলটিতে ইট ভাটা না থাকায় প্রাকৃতিক নৈসর্গ দেখতে প্রতিদিনই শত শত লোক ভীড় জমায় এখানে। অথচ দু’একজন অর্থ পিশাচের কারনে এত সুন্দর একটি স্থান আজ বিলুপ্ত হওয়ার পথে।
স্থানীয় কৃষক আবদুর রহিম, কালাচাঁদ, রহিম মিয়া, হাসান আলী জানান, গত কয়েক বছর থেকে বেশ কয়েকজন ইটভাটা মালিক তাদেরকে অনেক চাপ প্রয়োগ করেছেন জমিগুলো তাদেরকে দিতে। এতদিন আমরা চুপ করে থাকলেও এক প্রকার বাধ্য হয়ে জমিগুলো ইটভাটার মালিককে দিতে হয়েছে। এমনিতে ধান চাষ বন্ধ হয়ে গেছে, এখন ব্রিকফিল্ড হলে বাকী জমিগুলোতে আর ধানসহ কোন ফসলই আর হবে না।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার একর জমিতে ধান বের হয়েছে। কোথাও কোথাও আধা পাকা। আর এ ধানি জমির উপর ইট, বালু ও সুরকী ফেলে তৈরি করা হচ্ছে ইটভাটার কার্যক্রম।
এ ব্যাপারে ব্রিক ফিল্ড মালিক দুুলাল আটিয়া জানান, আমরা মূলত বাড়ী করছি। তাছাড়া ব্রিক স্থাপনের চিন্তা ভাবনা চলছে। এ ব্যাপারে আমার বড় ভাই জানেন। কে এই বড় ভাই এবং তার মোবাইল নম্বরটা দিতে বললে তিনি এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে বলেন, আপনারা আসেন তাহলে বুঝিয়ে বলবো। ধানী কোন জমিতে নির্মান কাজ করছিনা। স্থাপনা নির্মানে আপনাদের তো কোন সমস্যা দেখছিনা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, আমরা উক্ত ব্রীক ফিল্ডের ব্যাপারে কিছুই জানিনা। আমাদেরকে ইটভাটা কতৃপক্ষ অবগতও করেননি। আপনারা লেখেন, আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।
উপজেলা সহকারী কর্মকর্তা ভূমি (এসিল্যান্ড) মোঃ রফিক উল্যাহ জানান, আমরা ইট ভাটা নির্মানে কোন অনুমতি দিতে পারি না। তবে জেলা থেকে তদন্ত রিপোর্ট চাইলে আমরা তদন্ত করে রিপোর্ট পেশ করতে পারি। এছাড়া ইট ভাটার ব্যাপারে আমরা কিছুই জানিনা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহাবুবুল আলম জানান, আমরা এ ব্যাপারে বলতেও পারবো না। নতুন করে ইটভাটা নির্মানে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। তারা কার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন আমি বলতে পারবো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *