বটিয়াঘাটায় নদীর তীরের খাসজমি দখল করে রাতারাতি পাকা স্থাপনা! ইউএনও-এসি ল্যান্ডকে ছবি-ভিডিওসহ অভিযোগ, তবুও নীরব প্রশাসন; প্রশ্নের মুখে সরকারি জমি রক্ষার দায়িত্ব
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটায় বিরাট খেয়াঘাটসংলগ্ন নদীর তীরের সরকারি খাসজমি দখল করে রাতারাতি পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ চললেও উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার ছবি ও ভিডিওসহ অবহিত করার পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিরাট ও তালবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এনামুল এহসান (ইনসান)-এর ছেলে মেহেদী হাসান বিরাট খেয়াঘাট থেকে উঠে নদীর তীরবর্তী সরকারি খাসজমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি এর আগেও একাধিক স্থানে খাসজমি দখল করে ঘের তৈরি করেছেন এবং অন্যদের কাছে ঘের বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণে বাধা দিতে গেলে মেহেদী হাসান দাবি করেন, তিনি ওপর মহলের অনুমতি নিয়েই কাজ করছেন। কেউ এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। এমনকি উপজেলা প্রশাসনেরও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নেই—এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঘটনাটি নিয়ে কয়েক দিন ধরে একাধিকবার বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে ছবি ও ভিডিওসহ অবহিত করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে কার্যকর অভিযান, নির্মাণকাজ বন্ধ কিংবা জমির দখল যাচাইয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ প্রশাসনের নজরে আনার পরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? কার অনুমতিতে সরকারি জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে? সত্যিই কি কোনো প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে চলছে এসব কর্মকাণ্ড, নাকি প্রশাসনিক উদাসীনতার সুযোগ নিচ্ছে দখলদাররা? তার এই ক্ষমতার উৎস্য কোথায়?
সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। অথচ অভিযোগের পরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে সরেজমিন তদন্ত করে জমির প্রকৃত মালিকানা ও শ্রেণি নির্ধারণ, নির্মাণকাজ বন্ধ, অবৈধ দখল প্রমাণিত হলে স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে (০১৯২০-২৯২৬৯০) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এখন দেখার বিষয়, সরকারি খাসজমি রক্ষায় বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, নাকি প্রভাবশালী হওয়ার দাবির কাছে সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বই প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়।

