খুবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত

এম এ জলিল বিভাগীয় প্রতিনিধি খুলনা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ ঐতিহাসিক ০৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করা হয়েছে। সকাল ৭টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল ৯টায় প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে দেশে যখন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে এবং দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীল হয়, তখন স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে ৭ নভেম্বর আবির্ভূত হয়েছিল। দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও ৭ নভেম্বরের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বাংলাদেশ যখনই কোনো সংকটের মুখে পড়ে, তখনই তা ৭ নভেম্বরের ঐক্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। চব্বিশের জুলাইয়েও আমরা দেখেছি মানুষের ঐক্য কীভাবে ফ্যাসিজমকে দূর করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে জিয়া পরিবারের অনন্য অবদান রয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৭ নভেম্বরের অভীষ্ট লক্ষ্য ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ৭ নভেম্বরের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বাঁক পরিবর্তনকারী দিন। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে ছিল। পরবর্তীতে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে এক নতুন সূচনা এনে দেয়। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা যেমন মুক্তিযুদ্ধে আমাদের উজ্জীবিত করেছিল, তেমনি ৭ নভেম্বর তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ গঠনের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবারের ওপর বিভিন্ন ষড়যন্ত্র সেই অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করেছিল। এসকল বাধা দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া এবং সকল অপচেষ্টা প্রতিহত করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বলেন, ৭ নভেম্বর কারো পক্ষে বা বিপক্ষের বিপ্লব ছিল না; এটি ছিল বাংলাদেশের অস্তিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। এই ঐতিহাসিক ঘটনার সঠিক ইতিহাস আমাদের রচনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মানুষের আশা-আকাঙ্খার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৭ নভেম্বর-পরবর্তী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পুনর্জাগরণ ঘটে। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় ৭ নভেম্বর একটি মাইলফলক। রাষ্ট্র গঠনে সেদিনের সেই ঐক্যের বার্তা আমাদের সবসময় পথ দেখাবে। নতুন প্রজন্মের সামনে এই সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে, যাতে তারা দেশের মূল চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে পারে।
রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইন স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোঃ নাসিফ আহসান। আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষা ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল জব্বার, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ সালাউদ্দীন, দি অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আশিক উর রহমান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস এম মোহাম্মদ আলী।
আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন জামে মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম ক্বারী মুস্তাকিম বিল্লাহ।
দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে বাদ যোহর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মন্দিরেও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
এ সকল কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, পরিচালকসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *