কাউখালিতে নিজ বসতঘর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার আলমারি ভাঙা, ঘরের মালামাল ছড়ানো-ছিটানো; হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ, তদন্তে পুলিশ

মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, পিরোজপুর:

পিরোজপুরের কাউখালীতে নিজ বসতঘর থেকে জেসমিন বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘরের ভেতর একটি আলমারি ভাঙা এবং মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড ও লুটপাটের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত থেকে রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত কোনো একসময় উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠী গ্রামের বান্দাঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।নিহত জেসমিন বেগম ওই এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা প্রয়াত কেরামত আলীর স্ত্রী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাহাফুজ নামে এক শ্রমিক ওই বাড়ির বাগানে সুপারি পাড়তে যান। কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেও জেসমিনের কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে খাটের ওপর জেসমিনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন।পরে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘরে গিয়ে দেখতে পান, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একটি আলমারিও ভাঙা পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, মরদেহটি বিবস্ত্র অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।প্রাথমিকভাবে জেসমিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।ঘটনার খবর পেয়ে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এবং নেছারাবাদ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণয় রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *