বটিয়াঘাটায় গোবিন্দ বাড়ৈয়ের মৃত্যু: স্বাভাবিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যার আশঙ্কা? — পর্ব ৩
সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটা কিসমত ফুলতলা সিলিন্দামারী এলাকার মৃত হরিপদ বাড়ৈ এর পুত্র গোবিন্দ বাড়ৈ এর মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চলছে নানা গুঞ্জন। ইং ১৬/০৯/২৬ তারিখ সন্ধ্যায় তার মৃত্যু বা নিহতের ঘটনা ঘটার পরের দিন ১৭/০৯/২৬ তারিখ তার স্ত্রী বাদী হয়ে বটিয়াঘাটা থানায় এজাহার দায়ের করেছে। যার নং-০৬। মৃত্যুর পর ১২/১৩ দিন অতিবাহিত হলেও প্রশাসন পারেনি প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে। পোস্ট মটেম রিপোর্ট আসার পূর্বেই তা নিয়ে সন্দেহের দানা বেধেছে স্থানীয়দের মাঝে।
জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ০৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬ খ্রি:। সে অনুযায়ী তার বয়স ৬০ বছর। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নং-4711235839735। তিনি একজন সম্পদশালী হওয়া স্বত্বেও সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। এজাহার অনুযায়ী তিনি নিহত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিহতের দিনও সুস্থ অবস্থায় অনেকেই দেখলেও তার একমাত্র কন্যা পূর্বা বাড়ৈ অসুস্থ অবস্থায় ঘরে খাটের উপর রেখে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে রেখে সিলিন্দামারী মোড়ে গিয়ে কেনো ১০/২০ মিনিটের মধ্যে ফিরে আসলো? তখন তিনি প্রথম ঘরে গিছেলেন না কি পুকুরে? এজাহার অুনযায়ী তার স্ত্রী পলি মল্লিক বলেছেন পূর্বা বাড়ৈ গিয়ে পিতাকে পড়ে থাকতে দেখে পুকুর ঘাটে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানা পুলিশসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তৎপর। স্থানীয়রাও অধীক আগ্রহে বসে আছে প্রকৃত কারণ জানতে। প্রশাসন পারবে কি প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে?
স্থানীয়দের মাঝে কয়েকটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ও সন্দেহ নিয়ে হচ্ছে আলোচনা সমালোচনা:
•পূর্বা বাড়ৈ এর ভাষ্যমতে গোবিন্দ বাড়ৈ ঘাটে ফেলানোর সময় পরণে কাপড় ছিলোনা এবং মাথায় একটি কাপড় ছিলো, পূর্বার কথামতো তামীম গোবিন্দ বাড়ৈ এর মাথায় গামছা বেধে দিয়েছে। তাহলে পূর্বা মাথায় যে কাপড় দেখেছিলো সেটি কোথায়? তা থেকে আলমত পাওয়া যেতে পারে।
•সাধারণত মেয়েরা কোন অঘটন দেখেলে চিল্লা-পাল্লা বা চিৎকার চেচামেচি করে, সেখানে পূর্বা ঘাটে ফেলানো দেখে কেন চিৎকার চেচামেচি না করে বা প্রতিবেশিদের কাউকে না ডেকে একা টেনে নিয়ে ঘরে আসলো?
•পূর্বা তার পিতাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে কেনো জিজ্ঞাসা করলো হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারকে কি বলবে?
•স্থানীয় সূত্রে ও পূর্বার ভাষ্যমতে কিছুদিন পূর্বে তার পিতা কয়েক লক্ষ টাকার জমি বিক্রয় করেছে। এমনকি প্রশাসন নিহতের বালিসের নিচ থেকে ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে তদন্তের স্বার্থে তা এনে আবার ফেরতও দিয়েছে। এখানে প্রশ্ন যেহেতু তার পিতার শ্রাদ্ধে খরচ করার মতো যথেষ্ট অর্থ তাদের কাছে আছে, তাহলে কেনো এত টাকার গাছ বিক্রী করতে হলো। কেন দ্রুত বিক্রীত গাছ ট্রাকে করে সরানো হলো।
•জমিজমা বিক্রয়ের নগদ টাকা ঘরে আছে কারা কারা জানতো? তারা কেমন প্রকৃতির, তাদের সাথে কি সম্পর্ক।
•এমনও হতে পারে দুষ্কৃতীকারীরা পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা পূর্বা বাড়ৈ বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগে ছিলো, পূর্বার উপস্থিতি টের পেয়ে তার পিতার ডান পাশের মাথায় আঘাত করেছে। অথবা পূর্বা কে কেউ ভয় ভীতি দেখানোর ফলে জীবন ভয়ে প্রকৃত কারণ কে আড়াল করার চেষ্টা করছে।
•ইতোমধ্যে কারো সাথে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ হয়েছে কিনা?
•পূর্বা তার পিতাকে মৃত অথবা অচেতন অবস্থায় টেনে এনেছে প্রায় ৫০ ফুট, আনার সময় কোন রক্ত বা টেনে আনার আলামত পাওয়া গেছে কিনা?
•পূর্বা কেনো নিজের ফোন দিয়ে কল না দিয়ে নিহতে ফোন দিয়ে কল দিলেন?
তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় এলাকাবাসী : গোবিন্দ বাড়ৈয়ের মৃত্যুর ঘটনায় উত্থাপিত এসব প্রশ্নের কোনোটিই এখনো প্রমাণিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এগুলো স্থানীয়দের মধ্যে আলোচিত বিভিন্ন প্রশ্ন ও সন্দেহ মাত্র।
এখন মূল প্রশ্ন—গোবিন্দ বাড়ৈ কীভাবে মারা গেলেন? এটি কি স্বাভাবিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনো ঘটনা? তদন্তকারী সংস্থার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

