পিরোজপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৫০ লাখ টাকা
মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, পিরোজপুর:
পিরোজপুর শহরের কালিবাড়ী রোডের কালিবাড়ী স্ট্যান্ড এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি দোকান পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।অগ্নিকাণ্ডে জাহাঙ্গীর হোসেনের টেইলার্স, ধীমান মিস্ত্রির চায়ের দোকান, মশিউর রহমানের সাইকেল ও পার্টসের দোকান, আবু জর মোল্লার হার্ডওয়্যারের দোকান, আলী আকবর আকনের সাইকেল ও প্লাস্টিকের দোকান এবং মো. মহসিন শেখের মুদিখানা ও মনোহারি দোকান পুড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা বাড়ি চলে যাওয়ার পর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, তাঁদের অধিকাংশই ব্যাংক ও বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে দোকান ও মালামাল পুড়ে যাওয়ায় তাঁরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার যুগল বিশ্বাস বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দুই পাশের আরও অন্তত ১৫টি দোকান পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে আশপাশের দোকানগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। ছয়টি দোকান পুড়ে গেছে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে বলা যাবে।”
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

