ফুলবাড়ীয়ায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নিয়ে তোলপাড়, ফল প্রকাশের পর কমেন্ট বন্ধ নিয়ে জনসাধারণে জানালেন স্বচ্ছ তদন্তের দাবি

সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফলাফল প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের কমেন্ট অপশন বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে শুমারি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও সুবিধাভোগী একটি মহলকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘শুমারিতে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের’ অভিযোগ : স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়নি। তাদের দাবি, শুমারি কার্যক্রমে পদধারী ও চিহ্নিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে।

তাদের আরও অভিযোগ, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধাভোগীর তালিকা প্রভাবিত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন তদন্তের ফলাফল বা প্রামাণ্য নথি প্রকাশ্যে আসেনি।

কমেন্ট বন্ধ করায় বাড়ছে প্রশ্ন : ফলাফল প্রকাশের পরপরই ইউএনওর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের কমেন্ট সেকশন বন্ধ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন—জনগুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচির ফলাফল নিয়ে মানুষের মতামত ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ কেন সীমিত করা হলো?

উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা শুমারির পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি : অভিযোগকারীদের দাবি, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির শুরু থেকে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অনিয়মের মাধ্যমে তৈরি হয়ে থাকলে বিতর্কিত তালিকাও পুনঃযাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুমারি প্রক্রিয়া ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *