বাগেরহাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই নারীর সর্বস্ব পুড়ে ছাই নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, টিভি-ফ্রিজ-ল্যাপটপসহ তিন ঘরের সব মালামাল ধ্বংস; ক্ষতি ১০ লাখের বেশি

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট :

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার হোচলা পশ্চিমপাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই নারীর বসতঘর পুড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, টেলিভিশন, ফ্রিজ, ল্যাপটপ, সেলাই মেশিন, আসবাবপত্রসহ ঘরে থাকা প্রায় সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হোচলা গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পরিবারের দশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার হোচলা গ্রামের মৃত সুভাষ মণ্ডলের স্ত্রী শীলা মণ্ডল এবং কৃষ্ণপদ মণ্ডলের স্ত্রী দোলা মণ্ডলের বসতঘরে সকালে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়।

প্রথমে একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে স্থানীয়রা ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেও দ্রুত তা নেভাতে পারেননি।

তিনটি ঘরই পুড়ে ছাই চোখের পলকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেওয়ারও পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা।

স্থানীয়দের প্রাণপণ চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুনের অবশিষ্ট অংশ নিয়ন্ত্রণে আনে।

ততক্ষণে দুই নারীর তিনটি বসতঘর এবং ঘরে থাকা অধিকাংশ মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

আগুনে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজ, ল্যাপটপ, সেলাই মেশিন, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে যায়।

সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব দুই পরিবার

অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে নেমে আসে শোকের আবহ। আগুনে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সংসারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী এক মুহূর্তে ছাই হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবার এখন অনেকটাই অসহায় অবস্থায় পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত শীলা মণ্ডল ও দোলা মণ্ডল বলেন, ভয়াবহ আগুনে তাদের ঘরের সবকিছু পুড়ে গেছে। নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল আগুনের গ্রাসে চলে গেছে।

তাদের ভাষ্য, এ অগ্নিকাণ্ডে দশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাতের ধারণা

স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. শাহাজাহান মিয়া বলেন, তারা আগুন লাগার খবর কিছুটা দেরিতে পেয়েছেন। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, আগুনে তিনটি ঘরের সবকিছু পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন দ্রুত সহায়তা

একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা এখন নতুন করে ঘরসংসার গড়ার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান মানুষদের দাঁড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিক সংযোগ, পুরোনো তার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে শর্টসার্কিটজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এক মুহূর্তের আগুনে পুড়ে গেছে দুই পরিবারের স্বপ্ন, সঞ্চয় ও সংসারের স্মৃতি। এখন তাদের সামনে একটাই প্রশ্ন—ছাই হয়ে যাওয়া সেই ঘর আবার কীভাবে গড়ে উঠবে।”ছবি সংযুক্ত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *