লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় কলেজ শিক্ষককে কু’পিয়ে জ’খম, আসামি গ্রে’প্তারে ব্যর্থ প্রশাসন
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর প্রতিবাদ করায় আরিফুল ইসলাম নামে এক কলেজ শিক্ষককে কু’পিয়ে ও পি’টিয়ে গু’রুতর আ’হত করার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে। হামলার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ৮ আট দিন হয়ে গেলেও অচেতন শিক্ষক। আসামীরা পলাতক থাকায় গ্রেফতারে ব্যর্থ প্রশাসন।
আহত আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। তিনি আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।
এ ঘটনায় আরিফুল ইসলামের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ৬ জন কথিত অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনো ব্যবসায়ীসহ মোট ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রহিদুল ইসলাম, হাসান আলী ও মাসুদ আলীসহ কয়েকজন অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে এলাকার অনেকেই অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। জুয়ার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং কেউ পরিবার-পরিজন ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, স্থানীয় বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম সচেতন নাগরিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবকদের অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করে আসছিলেন। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হবে বলেও তিনি তাদের জানিয়েছিলেন।
এর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ আগস্ট দুপুরে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুল ইসলামের ওপর হা’মলা চালানো হয় বলে মা’মলায় অভিযোগ করা হয়েছে। হা’মলাকারীরা তাকে লোহার রড দিয়ে মা’রধরের পাশাপাশি ধারালো অ’স্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কু’পিয়ে গুরুতর জ’খম করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
আহত শিক্ষকের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “আমার ছেলের অবস্থা ভালো নয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। গত আট দিন ধরে হাসপাতালে মৃ’ত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন। মামলা করার সাত দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রে’প্তার করা হয়নি।”
মা’মলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, “এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

