কক্সবাজারে মাদক কারবারিদের নতুন তালিকা হচ্ছে শিগগিরই টাস্কফোর্সের প্রধান রামু সেনানিবাসের ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
কক্সবাজারে মাদক কারবার ও চোরাচালান প্রতিরোধে আরও কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জেলার মাদক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে শিগগিরই মাদক কারবারিদের নতুন তালিকা প্রস্তুত করা হবে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত ও আত্মগোপনে থাকা মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাদক প্রতিরোধে গঠিত কক্সবাজার জেলা টাস্কফোর্স কমিটিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রামু সেনানিবাসে অবস্থানরত ১০ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় মাদক কারবারিদের নতুন করে শনাক্ত করা হবে। বিশেষ করে পুরোনো তালিকার বাইরে থাকা এবং দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাদক কারবারিদের তথ্য সংগ্রহ করে নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কও চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। সীমান্তপথে মাদকের প্রবেশ বন্ধ এবং জেলার অভ্যন্তরে এর বিস্তার রোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুনর্গঠিত টাস্কফোর্সের সমন্বিত অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা সম্পৃক্ত থাকবেন। এর ফলে বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার দীর্ঘদিন ধরেই মাদক চোরাচালানের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। সীমান্ত ও উপকূলীয় অবস্থানের কারণে বিভিন্ন পথে মাদক প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন তালিকা প্রণয়ন ও সমন্বিত অভিযানকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নতুন তালিকা প্রণয়ন ও টাস্কফোর্সের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে কক্সবাজারে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে এবং জেলার মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

